Lama ০১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল নামের এক প্রতারক

আশুলিয়ায় যৌথ ব্যবসার নাম করে ফাঁদে আটকিয়ে অজ্ঞান  করে সতেরো লাখ টাকা নিয়ে উদাও

আশুলিয়ায় ব্যবসায় পার্টনার করার নাম করে মোঃ বেলায়েত হোসেন প্রতারক ময়নুল। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা আশুলিয়া থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায়।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলা নং-৫০, তারিখ: ১০/৮/২৬, ধারা ৩২৮, ৪০৬, ৪২০, ৩৪। মামলার বাদী মোঃ বেলায়েত হোসেন; প্রতারক জামাল হোসেন ওরফে ময়নুলকে ধরিয়ে দিতে দেশের সকল থানা পুলিশ, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনসহ দেশবাসীর কাছে মিনতি জানিয়েছেন। প্রতারক ময়নুল যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে; সে জন্য দেশের বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

        ছবিতে প্রতারক জামাল হোসেন ময়নুল

আশুলিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে প্রকাশ, আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া মোল্লাবাড়ী চৌরাস্তা (আফাজ বেপারীর বাড়ীর ভাড়াটিয়া, জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল এর সাথে বিগত তিন বছর আগে একই ঠিকানার কাঠগড়া উত্তরপাড়ায় বসবাসকারী বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হয়।

কাছাকাছি বসবাস করায় দেখা সাক্ষাতে কথাবার্তায় উভয়ের মধ্যে আন্তরিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে জামাল হোসেন যৌথভাবে জমি ও বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলে, বেলায়েত হোসেন তাতে রাজি হয়।

কিছু দিন না যেতেই জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুলগ যৌথ বিনিয়োগে দুই কোটি টাকায় একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘বাড়ির মালিককে অগ্রিম বায়না স্বরুপ ত্রিশ লক্ষ টাকা দিতে হবে; তবে আমার কাছে তেরো লাখ টাকা আছে, বাকি সতেরো লাখ টাকা তুমি দাও।’

কথা অনুযায়ী বেলায়েত হোসেন বিগত ৮জুন/২৬ তারিখে দুপুর আড়াইটার সময় নগদ সতেরো লাখ টাকা একটি ব্যাগে করে নিয়ে ময়নুলের ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে বেলায়েত হোসেনকে চা বিস্কিট দিয়ে আপ্যায়ন করে। ওই সময় ময়নুলের বাসায় আরো ৩/৪জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদ্বয় উপস্থিত ছিলো। বেলায়েত হোসেন ওইসব ব্যক্তির পরিচয় জানতে চায় এবং তাৎক্ষনিক অচেতন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রিক্সা যোগে

 বাসায় পৌঁছিয়ে দেয়। জ্ঞান ফেরার পর বেলায়েত হোসেন নিজেকে তার বাসায় দেখতে পায় এবং তার স্ত্রী অচেতন অবস্থার কথা জানায়। এর পরপরই খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ১৭ লাখ টাকা নিয়ে জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল ভাড়া বাসা থেকে পালিয়ে

আত্মগোপন করে নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর এইচ এম ইমন জানান, মামলা রুজুর পর আসামীকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, এই প্রতারককে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সারা দেশের থানাগুলোতে এই প্রতারকের বিষয়ে ইতিমধ্যে সিস্টেমিক ম্যাসেজ পৌঁছে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লংগদুতে সৎ বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার বাবা- সাথে প্রতিবেশী যুবকও গ্রেফতার

Bandarban Tribune

জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল নামের এক প্রতারক

আশুলিয়ায় যৌথ ব্যবসার নাম করে ফাঁদে আটকিয়ে অজ্ঞান  করে সতেরো লাখ টাকা নিয়ে উদাও

Update Time : ০৪:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় ব্যবসায় পার্টনার করার নাম করে মোঃ বেলায়েত হোসেন প্রতারক ময়নুল। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা আশুলিয়া থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায়।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলা নং-৫০, তারিখ: ১০/৮/২৬, ধারা ৩২৮, ৪০৬, ৪২০, ৩৪। মামলার বাদী মোঃ বেলায়েত হোসেন; প্রতারক জামাল হোসেন ওরফে ময়নুলকে ধরিয়ে দিতে দেশের সকল থানা পুলিশ, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনসহ দেশবাসীর কাছে মিনতি জানিয়েছেন। প্রতারক ময়নুল যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে; সে জন্য দেশের বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

        ছবিতে প্রতারক জামাল হোসেন ময়নুল

আশুলিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে প্রকাশ, আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া মোল্লাবাড়ী চৌরাস্তা (আফাজ বেপারীর বাড়ীর ভাড়াটিয়া, জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল এর সাথে বিগত তিন বছর আগে একই ঠিকানার কাঠগড়া উত্তরপাড়ায় বসবাসকারী বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হয়।

কাছাকাছি বসবাস করায় দেখা সাক্ষাতে কথাবার্তায় উভয়ের মধ্যে আন্তরিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে জামাল হোসেন যৌথভাবে জমি ও বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলে, বেলায়েত হোসেন তাতে রাজি হয়।

কিছু দিন না যেতেই জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুলগ যৌথ বিনিয়োগে দুই কোটি টাকায় একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘বাড়ির মালিককে অগ্রিম বায়না স্বরুপ ত্রিশ লক্ষ টাকা দিতে হবে; তবে আমার কাছে তেরো লাখ টাকা আছে, বাকি সতেরো লাখ টাকা তুমি দাও।’

কথা অনুযায়ী বেলায়েত হোসেন বিগত ৮জুন/২৬ তারিখে দুপুর আড়াইটার সময় নগদ সতেরো লাখ টাকা একটি ব্যাগে করে নিয়ে ময়নুলের ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে বেলায়েত হোসেনকে চা বিস্কিট দিয়ে আপ্যায়ন করে। ওই সময় ময়নুলের বাসায় আরো ৩/৪জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদ্বয় উপস্থিত ছিলো। বেলায়েত হোসেন ওইসব ব্যক্তির পরিচয় জানতে চায় এবং তাৎক্ষনিক অচেতন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রিক্সা যোগে

 বাসায় পৌঁছিয়ে দেয়। জ্ঞান ফেরার পর বেলায়েত হোসেন নিজেকে তার বাসায় দেখতে পায় এবং তার স্ত্রী অচেতন অবস্থার কথা জানায়। এর পরপরই খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ১৭ লাখ টাকা নিয়ে জামাল হোসেন প্রকাশ ময়নুল ভাড়া বাসা থেকে পালিয়ে

আত্মগোপন করে নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর এইচ এম ইমন জানান, মামলা রুজুর পর আসামীকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, এই প্রতারককে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সারা দেশের থানাগুলোতে এই প্রতারকের বিষয়ে ইতিমধ্যে সিস্টেমিক ম্যাসেজ পৌঁছে গেছে।