Lama ১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ Time View

সংবাদদাতা:-

মিরসরাইকে প্রশাসনিকভাবে বিভক্ত করে জোরারগঞ্জ থানার আওতাধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক জোরারগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন গত ১৭ জুন এ প্রস্তাব উত্থাপন করলে বিষয়টি উত্তর চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন বিবেচনায় জোরারগঞ্জকে উপজেলা করা সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিরসরাই উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৮২ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা, ২১৯টি গ্রাম, ৯৫টি মৌজা এবং প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি জনসংখ্যা।

ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত এই অঞ্চলে প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম দিন দিন জটিল হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। প্রস্তাব অনুযায়ী, করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর, ইছাখালী, কাটাছড়া ও দুর্গাপুর এই আটটি ইউনিয়ন এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবে নতুন জোরারগঞ্জ উপজেলা। অন্যদিকে শাহেরখালী, ওয়াহেদপুর, হাইতকান্দি, মায়ানী, খৈয়াছড়া, মঘাদিয়া, মিঠানালা ও মিরসরাই সদর ইউনিয়ন এবং মিরসরাই পৌরসভা নিয়ে বর্তমান মিরসরাই উপজেলা বহাল থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, জোরারগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) গড়ে উঠেছে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি জোরারগঞ্জ এলাকায় বিএসআরএম স্টিলসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বারইয়ারহাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কার্যক্রম এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকেও জোরারগঞ্জের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন স্থানীয়রা। বারইয়ারহাট হয়ে খাগড়াছড়ির রামগড়সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশপথ রয়েছে এ এলাকায়।
পাশাপাশি ফেনী নদী, উপকূলীয় মৎস্য অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এই এলাকার কৌশলগত অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও জোরারগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এখানে বারইয়ারহাট ডিগ্রি কলেজ, জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজ, জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও মহাজনহাট ডিগ্রি কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত মিরসরাই উপজেলায় থাকবে মিরসরাই পৌরসভা, নিজামপুর সরকারি কলেজ, মিরসরাই ডিগ্রি কলেজ, বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং বিসিক শিল্পনগরীসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে জোরারগঞ্জ অঞ্চলের মানুষকে ভূমি, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়।

পৃথক উপজেলা গঠিত হলে সেবা সহজ হবে এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করে সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, জোরারগঞ্জ এখন শুধু একটি থানা নয় এটি শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় পৃথক উপজেলা গঠন করা হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদরাও এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।তাদের মতে, জোরারগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়িত হলে উত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। তবে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে মিরসরাইয়ের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

দীঘিনালায় ২০ পরিবারের আয়ের পথ খুলল সেনাবাহিনীর সেলাইমেশিনে

Bandarban Tribune

মিরসরাইয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব

Update Time : ০৬:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সংবাদদাতা:-

মিরসরাইকে প্রশাসনিকভাবে বিভক্ত করে জোরারগঞ্জ থানার আওতাধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক জোরারগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন গত ১৭ জুন এ প্রস্তাব উত্থাপন করলে বিষয়টি উত্তর চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন বিবেচনায় জোরারগঞ্জকে উপজেলা করা সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিরসরাই উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৮২ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা, ২১৯টি গ্রাম, ৯৫টি মৌজা এবং প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি জনসংখ্যা।

ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত এই অঞ্চলে প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম দিন দিন জটিল হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। প্রস্তাব অনুযায়ী, করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর, ইছাখালী, কাটাছড়া ও দুর্গাপুর এই আটটি ইউনিয়ন এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবে নতুন জোরারগঞ্জ উপজেলা। অন্যদিকে শাহেরখালী, ওয়াহেদপুর, হাইতকান্দি, মায়ানী, খৈয়াছড়া, মঘাদিয়া, মিঠানালা ও মিরসরাই সদর ইউনিয়ন এবং মিরসরাই পৌরসভা নিয়ে বর্তমান মিরসরাই উপজেলা বহাল থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, জোরারগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) গড়ে উঠেছে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি জোরারগঞ্জ এলাকায় বিএসআরএম স্টিলসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বারইয়ারহাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কার্যক্রম এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকেও জোরারগঞ্জের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন স্থানীয়রা। বারইয়ারহাট হয়ে খাগড়াছড়ির রামগড়সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশপথ রয়েছে এ এলাকায়।
পাশাপাশি ফেনী নদী, উপকূলীয় মৎস্য অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এই এলাকার কৌশলগত অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও জোরারগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এখানে বারইয়ারহাট ডিগ্রি কলেজ, জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজ, জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও মহাজনহাট ডিগ্রি কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত মিরসরাই উপজেলায় থাকবে মিরসরাই পৌরসভা, নিজামপুর সরকারি কলেজ, মিরসরাই ডিগ্রি কলেজ, বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং বিসিক শিল্পনগরীসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে জোরারগঞ্জ অঞ্চলের মানুষকে ভূমি, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়।

পৃথক উপজেলা গঠিত হলে সেবা সহজ হবে এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করে সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, জোরারগঞ্জ এখন শুধু একটি থানা নয় এটি শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় পৃথক উপজেলা গঠন করা হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদরাও এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।তাদের মতে, জোরারগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়িত হলে উত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। তবে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে মিরসরাইয়ের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো।