
সংবাদদাতা:-
অজ্ঞাত, ভবঘুরে ও বেওয়ারিশ লাশের গোসল ও দাফন কার্যক্রমে সেবাদানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’-এর দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলে আগামী ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতি এবং অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি ডা. এস এ ফারুক এর সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক আলহাজ্ব নিজাম উদ্দীন, সাবেক অর্থ ও হিসাব শাখার প্রধান মাওলানা ক্বারি নোমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ ভুঁইয়া কনক, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক ও সাংবাদিক নুরুল আলম।
সভায় লাশ গোসল ও দাফন সেবা উপকমিটি, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পরে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নির্বাচিত অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন সহ সভাপতি মনজুর মোর্শেদ ভুঁইয়া কনক, যুগ্ম সম্পাদক ক্বারি নোমান এবং হাফেজ মাওলানা শোয়াইব অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
নবগঠিত কার্যকরী কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগঠনের সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে প্রথম সভা আহ্বান করবে বলে সভায় জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন-কাফনে যখন স্বজনরাও এগিয়ে আসতে ভয় পেতেন, তখন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাশের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেন। অনেক সময় দিনে ও গভীর রাতে একাধিক লাশ দাফনের দায়িত্ব পালন করেছে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিরসরাই ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, রামগড়, পার্বত্য অঞ্চল ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৬৮টি লাশের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। মানবিক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’।বক্তারা বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের দুর্দিনে পাশে থাকবে। করোনা-পরবর্তী সময়েও ভবঘুরে, অজ্ঞাত পরিচয় ও দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের দাফনসহ মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অসহায় মানুষের মৃত্যুর পর শেষ আশ্রয় ও শেষ ভরসা হয়ে পাশে থাকবে ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’।
Reporter Name 



















