Lama ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদগাঁও মাছ বাজার শেডের নির্মাণ কাজ পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ খাচ্ছে না

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৬২ Time View

সংবাদদাতা:-

জনস্বার্থে ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দখলমুক্ত খোলা মাছ বাজার শেড দাবি স্থানীয়দের।

জনস্বার্থে ও ব্যবসার সুবিধার্থে ঈদগাঁও মাছ বাজারের সকল পথ খোলা রাখতে হবে; এমন দাবি সেখানকার ব্যসায়ীদের।

ঈদগাঁও মাছ বাজারের পশ্চিম পাশের সড়ক বন্ধ রাখায় চরম বিপাকে পড়েছেন জনগণ। পূর্ব পাশের একটি সড়ক দিয়ে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য জমবে না। তাই উভয় সড়ক খুলে দিতে হবে। জনস্বার্থে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দখলমুক্ত খোলা মাছ বাজার শেড দাবি করেন জালালাবাদ ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি সদস্য মোকতার আহমদ। তিনি সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ৫০ থেকে ৫৪ বছর পর্যন্ত মাছ বাজারের শেড ছিল দুই চালা বিশিষ্ট। পরে ৪ ফুট উঁচু পাকা করে শেড নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ বছর আলো-বাতাসহীন ছিলো।

বর্তমান শেডের নিচতলায় দেয়াল না তোলে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষজনের সুবিধার্থে শেডের সকল পথ পুরোপুরি খোলা রাখতে হবে। পশ্চিম পাশের বন্ধ পথ খোলে না দিলে লোকজন চলাচল করতে পারবেন না। কেবলমাত্র পূর্বের সড়ক দিয়ে মাছ বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য জমে উঠবে না। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের জনগণসহ দূর-দূরান্তের ক্রেতা- বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত এ বাজারে আসেন। তাই তাদের সুবিধার্থে চতুর্দিকেই রাস্তা খোলা রাখতে হবে। শেডের নিচ তলায় দেয়াল থাকলে জন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। মুক্ত বাতাস থেকে বঞ্চিত হবেন ক্রেতা- বিক্রেতারা। পার্শ্ববর্তী ভবন সমূহের সাথে মাছ বাজার শেডটি মিলিয়ে ফেলায় শেডের অধিকাংশ স্থান দখল হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দখলমুক্ত শেড প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি বলে মনে করেন সাবেক এ জনপ্রতিনিধি।

অন্যদিকে ঈদগাঁও বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের ইজারা মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে। ঈদগাঁও বাজার সাড়ে চার কোটি টাকার মতো ইজারা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত। মাছ বাজারে যে অবকাঠামো হচ্ছে, তা এলাকার সাথে অসামঞ্জস্য। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য সমন্বয় করে অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার। মাছ বাজারের পুরোনো শেডটি ভেঙ্গে ফেলায় মাছ ব্যবসায়ীরা জায়গার ইজারার বাহিরে ভাডাও দিচ্ছেন।

তাই ইউএনওর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন মাছ বাজারের ইজারাটা মওকুফ/ শিথিল করা হয়। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা গলায় গলায় ঋণগ্রস্ত। তারা দীর্ঘদিন নির্যাতিত ও নিপীড়িত। তাদের এ দুরবস্থার নিরসন ও মাছ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে পথঘাট উন্মুক্ত করা, ইজারা মওকুফ বা শিথিলের দাবি জানালেন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম শহীদ।ঈদগাঁও মাছ বাজারের পুরোনো সড়কটি জন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

পথের বাঁক পরিবর্তন মেনে নেবে না ভূক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীরা। এ উন্নয়ন সরকারের আমলেও প্রকৌশলীর প্লানে মাছ বাজারের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে মাছ বাজারে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। জন চলাচলের পথ খোলা রাখলে মালামাল আনা নেওয়া ও ব্যবসা-বাণিজ্য করা সহজ হবে। সরকারের কাছে এমনটাই দাবি জানালেন ঈদগাঁও মাছ বাজার ভাই ভাই সমিতির সভাপতি শওকত আলম।

অপরদিকে ঈদগাঁও মাছ বাজারের জন চলাচলের সড়ক ব্যবহার উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ঈদগাঁও বাজারে নির্মানাধীন মাছ বাজার সেডের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক জন চলাচলের উপযোগী করতে হবে। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে এমন উন্নয়ন চাই না।

জন চলাচলে রাস্তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়। মাছ বাজার সেডে যে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। আমরা মনে করি অন্য কোন জায়গার ‘প্ল্যান’ এখানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই এখানকার পারিপার্শ্বিকতার সাথে এ ভবনের নির্মাণ কাজ কোন ক্রমেই এডজাস্ট হচ্ছে না।

এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ উন্নয়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে মাছ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রুবেল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

থানচি লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি

Bandarban Tribune

ঈদগাঁও মাছ বাজার শেডের নির্মাণ কাজ পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ খাচ্ছে না

Update Time : ০৯:৪০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সংবাদদাতা:-

জনস্বার্থে ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দখলমুক্ত খোলা মাছ বাজার শেড দাবি স্থানীয়দের।

জনস্বার্থে ও ব্যবসার সুবিধার্থে ঈদগাঁও মাছ বাজারের সকল পথ খোলা রাখতে হবে; এমন দাবি সেখানকার ব্যসায়ীদের।

ঈদগাঁও মাছ বাজারের পশ্চিম পাশের সড়ক বন্ধ রাখায় চরম বিপাকে পড়েছেন জনগণ। পূর্ব পাশের একটি সড়ক দিয়ে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য জমবে না। তাই উভয় সড়ক খুলে দিতে হবে। জনস্বার্থে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দখলমুক্ত খোলা মাছ বাজার শেড দাবি করেন জালালাবাদ ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি সদস্য মোকতার আহমদ। তিনি সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ৫০ থেকে ৫৪ বছর পর্যন্ত মাছ বাজারের শেড ছিল দুই চালা বিশিষ্ট। পরে ৪ ফুট উঁচু পাকা করে শেড নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ বছর আলো-বাতাসহীন ছিলো।

বর্তমান শেডের নিচতলায় দেয়াল না তোলে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষজনের সুবিধার্থে শেডের সকল পথ পুরোপুরি খোলা রাখতে হবে। পশ্চিম পাশের বন্ধ পথ খোলে না দিলে লোকজন চলাচল করতে পারবেন না। কেবলমাত্র পূর্বের সড়ক দিয়ে মাছ বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য জমে উঠবে না। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের জনগণসহ দূর-দূরান্তের ক্রেতা- বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত এ বাজারে আসেন। তাই তাদের সুবিধার্থে চতুর্দিকেই রাস্তা খোলা রাখতে হবে। শেডের নিচ তলায় দেয়াল থাকলে জন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। মুক্ত বাতাস থেকে বঞ্চিত হবেন ক্রেতা- বিক্রেতারা। পার্শ্ববর্তী ভবন সমূহের সাথে মাছ বাজার শেডটি মিলিয়ে ফেলায় শেডের অধিকাংশ স্থান দখল হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দখলমুক্ত শেড প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি বলে মনে করেন সাবেক এ জনপ্রতিনিধি।

অন্যদিকে ঈদগাঁও বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের ইজারা মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে। ঈদগাঁও বাজার সাড়ে চার কোটি টাকার মতো ইজারা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত। মাছ বাজারে যে অবকাঠামো হচ্ছে, তা এলাকার সাথে অসামঞ্জস্য। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য সমন্বয় করে অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার। মাছ বাজারের পুরোনো শেডটি ভেঙ্গে ফেলায় মাছ ব্যবসায়ীরা জায়গার ইজারার বাহিরে ভাডাও দিচ্ছেন।

তাই ইউএনওর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন মাছ বাজারের ইজারাটা মওকুফ/ শিথিল করা হয়। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা গলায় গলায় ঋণগ্রস্ত। তারা দীর্ঘদিন নির্যাতিত ও নিপীড়িত। তাদের এ দুরবস্থার নিরসন ও মাছ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে পথঘাট উন্মুক্ত করা, ইজারা মওকুফ বা শিথিলের দাবি জানালেন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম শহীদ।ঈদগাঁও মাছ বাজারের পুরোনো সড়কটি জন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

পথের বাঁক পরিবর্তন মেনে নেবে না ভূক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীরা। এ উন্নয়ন সরকারের আমলেও প্রকৌশলীর প্লানে মাছ বাজারের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে মাছ বাজারে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। জন চলাচলের পথ খোলা রাখলে মালামাল আনা নেওয়া ও ব্যবসা-বাণিজ্য করা সহজ হবে। সরকারের কাছে এমনটাই দাবি জানালেন ঈদগাঁও মাছ বাজার ভাই ভাই সমিতির সভাপতি শওকত আলম।

অপরদিকে ঈদগাঁও মাছ বাজারের জন চলাচলের সড়ক ব্যবহার উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ঈদগাঁও বাজারে নির্মানাধীন মাছ বাজার সেডের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক জন চলাচলের উপযোগী করতে হবে। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে এমন উন্নয়ন চাই না।

জন চলাচলে রাস্তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়। মাছ বাজার সেডে যে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। আমরা মনে করি অন্য কোন জায়গার ‘প্ল্যান’ এখানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই এখানকার পারিপার্শ্বিকতার সাথে এ ভবনের নির্মাণ কাজ কোন ক্রমেই এডজাস্ট হচ্ছে না।

এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ উন্নয়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে মাছ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রুবেল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।