
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য। দীপের দাবি, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার দেওয়া এই বর্ণনায় এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার অন্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে সঙ্গে নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব এলাকা পরিদর্শন করে পিবিআই। এ সময় টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি ও ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠে ঘটনার রাতের বিবরণ দেন দীপ।
পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দীপের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি তাহসিফকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তিতে যান। সেখানে দুজন কথা বলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। ওই ব্যক্তিরা ইউনিফর্ম পরা ছিলেন বলে দাবি করেছেন দীপ।
দীপের ভাষ্য, ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে তিনি নিজে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দীপ বলেন, দূর থেকে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করছিলেন। তখন তিনি ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে অবস্থান নেন, যাতে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিরা তাকে দেখতে না পান। তাহসিফ দৌড়ে সামনে চলে গেলেও তিনি দৌড়াননি, হেঁটে সেখান থেকে চলে আসেন।
তবে দীপের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার অন্য তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা। পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দীপের বক্তব্যে তারা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি। মামলার অন্যান্য দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার মোটরসাইকেল নিয়ে যাচাই
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের দোকানি জুবায়দা বেগম জানান, গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরের সড়কে মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। তবে কে বা কারা সেটি সেখানে রেখে গেছেন, তা জানেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে আবার সেটি নিয়ে ফিরে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় দীপকে
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। ওই যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা ওই যুবককে তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তাহসিফ। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মা বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ, তদন্তে একাধিক দিক
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নৌ-পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত করছে। নৌ-পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতাও করছে সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয়।
এখন দীপের দেওয়া তথ্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করছে তদন্ত সংস্থা। তাহসিফ কী পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছিলেন এবং তার মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 



















