Lama ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে সাঙ্গু নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষ, গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থী

বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদী নৌপথে দুইটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে য়াংহ্রেসে নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিক্ষার্থী হলো—থানচি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিত্রী ত্রিপুরা ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হেনা ত্রিপুরা। তারা দুজনই উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের কালু পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা যিহোবা যিরি ব্যাপ্টিস্ট মিশনে থেকে পড়াশোনা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা ছুটির কাটানো শেষে হোষ্টলে উদ্দেশ্যে সাঙ্গু নদীপথে নৌযানে চলাচলের সময় য়াংহ্রেসে এলাকায় দুটি নৌকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নৌকায় থাকা সাবিত্রী ত্রিপুরা ও হেনা ত্রিপুরা গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার শেষে হেনা ত্রিপুরা সুস্থ হলেও সাবিত্রী ত্রিপুরা শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কালুপাড়া বাসিন্দা জয়বা ত্রিপুরা জানান, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রেমাক্রী থেকে থানচিতে আসার পথে সাঙ্গু নদীতে দুটি নৌকার সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবিত্রী ত্রিপুরাকে মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ নিয়ে রোগীর স্বজন ও নৌকার সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

থানচি যিহোবা যিরি ব্যাপ্টিস্ট মিশনের হোস্টেল সুপার দুসাজন ত্রিপুরা জানান, নৌযানের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাবিত্রী ত্রিপুরা ও হেনা ত্রিপুরা দুজনই মিশনের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে। আহতদের মধ্যে সাবিত্রী ত্রিপুরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে হেনা ত্রিপুরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছে।

থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, ‘আমি বর্তমানে পারিবারিক প্রয়োজনে মালুমঘাট হাসপাতালে অবস্থান করছি। সাবিত্রীর চিকিৎসার বিষয়টিও খোঁজখবর রাখছি। মুঠোফোনে স্থানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছি। আমরাও সহযোগিতা করব। তবে কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেন তাহসিফ, দীপের বক্তব্যে সন্দেহ পিবিআইয়ের

Bandarban Tribune

থানচিতে সাঙ্গু নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষ, গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থী

Update Time : ১০:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদী নৌপথে দুইটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে য়াংহ্রেসে নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিক্ষার্থী হলো—থানচি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিত্রী ত্রিপুরা ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হেনা ত্রিপুরা। তারা দুজনই উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের কালু পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা যিহোবা যিরি ব্যাপ্টিস্ট মিশনে থেকে পড়াশোনা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা ছুটির কাটানো শেষে হোষ্টলে উদ্দেশ্যে সাঙ্গু নদীপথে নৌযানে চলাচলের সময় য়াংহ্রেসে এলাকায় দুটি নৌকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নৌকায় থাকা সাবিত্রী ত্রিপুরা ও হেনা ত্রিপুরা গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার শেষে হেনা ত্রিপুরা সুস্থ হলেও সাবিত্রী ত্রিপুরা শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কালুপাড়া বাসিন্দা জয়বা ত্রিপুরা জানান, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রেমাক্রী থেকে থানচিতে আসার পথে সাঙ্গু নদীতে দুটি নৌকার সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবিত্রী ত্রিপুরাকে মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ নিয়ে রোগীর স্বজন ও নৌকার সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

থানচি যিহোবা যিরি ব্যাপ্টিস্ট মিশনের হোস্টেল সুপার দুসাজন ত্রিপুরা জানান, নৌযানের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাবিত্রী ত্রিপুরা ও হেনা ত্রিপুরা দুজনই মিশনের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে। আহতদের মধ্যে সাবিত্রী ত্রিপুরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে হেনা ত্রিপুরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছে।

থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, ‘আমি বর্তমানে পারিবারিক প্রয়োজনে মালুমঘাট হাসপাতালে অবস্থান করছি। সাবিত্রীর চিকিৎসার বিষয়টিও খোঁজখবর রাখছি। মুঠোফোনে স্থানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছি। আমরাও সহযোগিতা করব। তবে কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।