Lama ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​লামায় ‘মাঠ বার্তা’ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি: নেপথ্যে নানা অপরাধের অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সাংবাদিকতার মহান পেশাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘মাঠ বার্তা’ নামক একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইস্রাফিল করিম অভি নামের এক ব্যক্তি। তার সাথে আরও একটি চক্র জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার একটি স্থানীয় পর্যটন রিসোর্টে প্রবেশ করেন মাঠবার্তা পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ইস্রাফিল করিম অভি ও তার মামা ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ফয়সাল। ঘটনার আগে তারা নিজেদেরকে বহুল প্রচারের দাবিদার ‘মামাঠ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। রিসোর্টের বিভিন্ন ত্রুটি ও অবৈধ কার্যক্রমের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় রিসোর্টটি বন্ধ করে দেওয়া এবং সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন প্রশাসনকে ব্যবহার করে মানহানির হুমকি ও ভয় দেখায়।

​তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তাদের ভুয়া পরিচয় ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে গণধোলাই দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ইস্রাফিল করিম অভি মোটর সাইকেল নিয়ে পালায়, তবে তার সহকর্মী সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ফয়সাল ধরা পড়ে যায়।

​খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লামা থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ফয়সালকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে অভির বক্তব্য হচ্ছে, “আমি ‘আমি মাঠ বার্তা’ নামের ফেসবুক পেইজ করে তাতে লেখা লেখি করি আমার মামা ফয়সাল বেড়াতে এসেছে, সে সাংবাদিক নয়। ঘটনার দিন এক পর্যটক দম্পত্তির পরিচয় জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে রেস্তোরাঁর লোকেরা হামলা করে।”

​সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি:
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইস্রাফিল করিম অভি নিজেকে কথিত ‘মাঠ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি অভি ও তার মামা ফয়সাল ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে পানির কল পাইয়ে দিবার কথা বলে নিরীহ মানুষজন থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অভির বক্তব্য হচ্ছে, “এই ধরণের কোনো লেনদেন আমি করি নাই।”

এছাড়া বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা এবং সাধারণ পেশাজীবীদের জিম্মি করাই মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। তার এই চাঁদাবাজির কারণে লামার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

প্রান্তিক মানুষ নিত্য প্রয়োজনে ও জীবীকা নির্বাহের জন্য জঙ্গল কিংবা নিজস্ব জায়গা থেকে সামান্য গাছ বাঁশ জ্বালানি কাঠ-খড়ি আনতে গেলে এই চাঁদাবাজ চক্রকে টাকা দিতে হয়। তাদের দাবি পুরণ না হলে বন বিভাগকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে অভি চক্র।

​পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি:
​অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ইস্রাফিল করিম অভি লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা এবং স্বঘোষিত একাধিক সংগঠনের সভাপতি পরিচয়দানকারী মো. করিম এলএলবি-র ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবা মো. করিম এলএলবি ও ছেলে ইস্রাফিল করিম অভি উভয়েই নিয়মিত এক সাথে মাদক সেবন করেন। তাদের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয়রা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে এক সাংবাদিক মোটর বাইন যোগে আলীকদম পোয়ামুহরী-কুরুকপাতা বেড়াতে যায়। যাওয়ার পথে বাবুপাড়া এক উপজাতির ছোট্ট একটি দোকানে তিন লিটার অকটেন রেখে যান যেন ফেরার পথে জ্বালানি সংকট না হয়। ওই দিন মাঠ বার্তার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দোকানীকে হুমকি দিয়ে ৫ শ্ টাকা আদায় করে নেয়। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মানুষকে প্রথমে মোবাইল ম্যাসেজ পরে সরাসরি গিয়ে নানা ধরনে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

​বিয়ে, নির্যাতন ও ডিভোর্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
​অভিযুক্ত অভির বিরুদ্ধে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অপরাধের অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছুদিন আগে চেয়ারম্যানপাড়ার এক বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) তরুণীকে ধর্ষণকালে স্থানীয় জনতার হাতে হাতেনাতে আটক হন ইস্রাফিল করিম অভি। পরবর্তীতে সামাজিক চাপ ও নানা সমীকরণে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য হন সে।

​তবে ওই তরুনীকে বিয়ের কিছুদিন না যেতেই অসহায় ওই মেয়েটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তালাক (ডিভোর্স) দেন অভি। নির্যাতিতা ও তার পরিবারের পক্ষে এই ন্যায়বিচার চেয়ে মামলাটি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এ বিষয়ে অভির বক্তব্য; “আমাকে ষড়যন্ত্র করে ঘটনায় জড়িয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে মামলা চলমান।” অভি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

​এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এবং নানা প্রভাব খাটিয়ে অভি ও তার সহযোগীরা একের পর এক অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। মাদক সেবন, নারী নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে জড়িত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহল দ্রুত তদন্ত করে ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে চলা এই চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনবে; এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের অপেশাদার ও চাঁদাবাজ ব্যক্তিদের কারণে আসল সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফয়সাল ও ইস্রাফিল করিম অভির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সরকার দেশে গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে চায়

Bandarban Tribune

​লামায় ‘মাঠ বার্তা’ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি: নেপথ্যে নানা অপরাধের অভিযোগ

Update Time : ১০:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সাংবাদিকতার মহান পেশাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘মাঠ বার্তা’ নামক একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইস্রাফিল করিম অভি নামের এক ব্যক্তি। তার সাথে আরও একটি চক্র জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার একটি স্থানীয় পর্যটন রিসোর্টে প্রবেশ করেন মাঠবার্তা পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ইস্রাফিল করিম অভি ও তার মামা ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ফয়সাল। ঘটনার আগে তারা নিজেদেরকে বহুল প্রচারের দাবিদার ‘মামাঠ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। রিসোর্টের বিভিন্ন ত্রুটি ও অবৈধ কার্যক্রমের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় রিসোর্টটি বন্ধ করে দেওয়া এবং সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন প্রশাসনকে ব্যবহার করে মানহানির হুমকি ও ভয় দেখায়।

​তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তাদের ভুয়া পরিচয় ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে গণধোলাই দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ইস্রাফিল করিম অভি মোটর সাইকেল নিয়ে পালায়, তবে তার সহকর্মী সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ফয়সাল ধরা পড়ে যায়।

​খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লামা থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ফয়সালকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে অভির বক্তব্য হচ্ছে, “আমি ‘আমি মাঠ বার্তা’ নামের ফেসবুক পেইজ করে তাতে লেখা লেখি করি আমার মামা ফয়সাল বেড়াতে এসেছে, সে সাংবাদিক নয়। ঘটনার দিন এক পর্যটক দম্পত্তির পরিচয় জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে রেস্তোরাঁর লোকেরা হামলা করে।”

​সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি:
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইস্রাফিল করিম অভি নিজেকে কথিত ‘মাঠ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি অভি ও তার মামা ফয়সাল ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে পানির কল পাইয়ে দিবার কথা বলে নিরীহ মানুষজন থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অভির বক্তব্য হচ্ছে, “এই ধরণের কোনো লেনদেন আমি করি নাই।”

এছাড়া বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা এবং সাধারণ পেশাজীবীদের জিম্মি করাই মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। তার এই চাঁদাবাজির কারণে লামার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

প্রান্তিক মানুষ নিত্য প্রয়োজনে ও জীবীকা নির্বাহের জন্য জঙ্গল কিংবা নিজস্ব জায়গা থেকে সামান্য গাছ বাঁশ জ্বালানি কাঠ-খড়ি আনতে গেলে এই চাঁদাবাজ চক্রকে টাকা দিতে হয়। তাদের দাবি পুরণ না হলে বন বিভাগকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে অভি চক্র।

​পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি:
​অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ইস্রাফিল করিম অভি লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা এবং স্বঘোষিত একাধিক সংগঠনের সভাপতি পরিচয়দানকারী মো. করিম এলএলবি-র ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবা মো. করিম এলএলবি ও ছেলে ইস্রাফিল করিম অভি উভয়েই নিয়মিত এক সাথে মাদক সেবন করেন। তাদের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয়রা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে এক সাংবাদিক মোটর বাইন যোগে আলীকদম পোয়ামুহরী-কুরুকপাতা বেড়াতে যায়। যাওয়ার পথে বাবুপাড়া এক উপজাতির ছোট্ট একটি দোকানে তিন লিটার অকটেন রেখে যান যেন ফেরার পথে জ্বালানি সংকট না হয়। ওই দিন মাঠ বার্তার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দোকানীকে হুমকি দিয়ে ৫ শ্ টাকা আদায় করে নেয়। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মানুষকে প্রথমে মোবাইল ম্যাসেজ পরে সরাসরি গিয়ে নানা ধরনে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

​বিয়ে, নির্যাতন ও ডিভোর্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
​অভিযুক্ত অভির বিরুদ্ধে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অপরাধের অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছুদিন আগে চেয়ারম্যানপাড়ার এক বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) তরুণীকে ধর্ষণকালে স্থানীয় জনতার হাতে হাতেনাতে আটক হন ইস্রাফিল করিম অভি। পরবর্তীতে সামাজিক চাপ ও নানা সমীকরণে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য হন সে।

​তবে ওই তরুনীকে বিয়ের কিছুদিন না যেতেই অসহায় ওই মেয়েটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তালাক (ডিভোর্স) দেন অভি। নির্যাতিতা ও তার পরিবারের পক্ষে এই ন্যায়বিচার চেয়ে মামলাটি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এ বিষয়ে অভির বক্তব্য; “আমাকে ষড়যন্ত্র করে ঘটনায় জড়িয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে মামলা চলমান।” অভি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

​এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এবং নানা প্রভাব খাটিয়ে অভি ও তার সহযোগীরা একের পর এক অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। মাদক সেবন, নারী নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে জড়িত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহল দ্রুত তদন্ত করে ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে চলা এই চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনবে; এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের অপেশাদার ও চাঁদাবাজ ব্যক্তিদের কারণে আসল সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফয়সাল ও ইস্রাফিল করিম অভির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।