Lama ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​গাইবান্ধায় তারুণ্যের ক্ষমতায়ন: সমতা ও ডিজিটাল সুরক্ষায় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুব সংলাপ

লিঙ্গগত বৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং জনস্বার্থে নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ গ্রহণে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের সার্কুলার রোডের ‘দেশি ভোজ’ কনফারেন্স রুমে ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে এবং ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সংগঠনের উপদেষ্টা, তরুণ প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধ্যানধারণার পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আফরোজা বেগম লুপু ও এবিএম জিল্লুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শাহ এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন মিয়া।

​এছাড়া আয়োজক সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেহেদী হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতহার মিহদা তুবা, হিসাব কর্মকর্তা রঞ্জন দেবনাথসহ স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
​
সংলাপে ​লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও ভুল তথ্য শনাক্ত করার কৌশল।​তথ্য যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যম ব্যবহার এবং ডিজিটাল পরিসরে নিরাপদ আচরণ গড়ে তোলা।​স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুব সংগঠনগুলোর কার্যকর সমন্বয় সাধন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো স্থান পায়।

​বক্তারা বলেন, তরুণদের মতামত, মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের বহু সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গসমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এই ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুব সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

​উল্লেখ্য, ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’ একটি যুব নেতৃত্বাধীন, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, সামাজিক উদ্ভাবন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে মালদ্বীপের স্পিকারের সাক্ষাৎ: সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব

Bandarban Tribune

​গাইবান্ধায় তারুণ্যের ক্ষমতায়ন: সমতা ও ডিজিটাল সুরক্ষায় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুব সংলাপ

Update Time : ১২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

লিঙ্গগত বৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং জনস্বার্থে নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ গ্রহণে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের সার্কুলার রোডের ‘দেশি ভোজ’ কনফারেন্স রুমে ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে এবং ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সংগঠনের উপদেষ্টা, তরুণ প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধ্যানধারণার পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আফরোজা বেগম লুপু ও এবিএম জিল্লুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শাহ এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন মিয়া।

​এছাড়া আয়োজক সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেহেদী হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতহার মিহদা তুবা, হিসাব কর্মকর্তা রঞ্জন দেবনাথসহ স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
​
সংলাপে ​লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও ভুল তথ্য শনাক্ত করার কৌশল।​তথ্য যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যম ব্যবহার এবং ডিজিটাল পরিসরে নিরাপদ আচরণ গড়ে তোলা।​স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুব সংগঠনগুলোর কার্যকর সমন্বয় সাধন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো স্থান পায়।

​বক্তারা বলেন, তরুণদের মতামত, মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের বহু সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গসমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এই ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুব সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

​উল্লেখ্য, ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’ একটি যুব নেতৃত্বাধীন, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, সামাজিক উদ্ভাবন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।