Lama ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আমরা শোকাহত

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও জানাজা শেষে সোমবার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সোমবার বেলা ২টায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সময় পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। পরে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

একই মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ। জানাজার আগে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ শফিকুর রহমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্যও ছিলেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন শফিকুর রহমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি—এই তিন পরিচয়ে তাঁর কর্মজীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে স্ট্রোক করার পর শফিকুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মুহম্মদ শফিকুর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণের কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার

Bandarban Tribune

আমরা শোকাহত

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান

Update Time : ০৫:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও জানাজা শেষে সোমবার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সোমবার বেলা ২টায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সময় পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। পরে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

একই মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ। জানাজার আগে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ শফিকুর রহমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্যও ছিলেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন শফিকুর রহমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি—এই তিন পরিচয়ে তাঁর কর্মজীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে স্ট্রোক করার পর শফিকুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মুহম্মদ শফিকুর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।