Lama ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে পাহাড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। বিহারে বিহারে ছোয়াইং দান ও ফানুষ বাতি উড়ানোর মধ্যদিয়ে শুরু হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মাহা ওয়াগ্যোই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা। এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ী পল্লী গুলোতে চলছে নানা আয়োজন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফানুস বাতি উড়ানো ও পিঠা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ী তরুণ-তরুণীরা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব এ ওয়াগ্যোইপোয়ে বা প্রবারনা পূর্ণিমা। এ উৎসবে ভগবান বুদ্ধকে মনের আশা পুরণের জন্য কাগজে ফানুস বাতি তৈরি করে তাতে আগুন দিয়ে আকাশে উড়িয়ে নিজেদের ইচ্ছার বহি:প্রকাশ ঘটায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। তাই প্রতি বছর পূর্ণিমার তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা এ উৎসবটি পালন করে থাকে।

সোমবার সকাল থেকে প্রতিটি বিহারে ছোয়াইং দান ও সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব। উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য এলাকার মারমা পল্লী গুলোতে চলছে নানা আয়োজন।

বুদ্ধ মূর্তি স্নান হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ছোয়াইং দান পিঠা তৈরী ফানুস উড়ানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সবশেষ রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২ দিনব্যাপী মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয় পোয়ে বা প্রবারনা পূর্ণিমা। প্রবারনাকে ঘিরে পাহাড়ী বাঙালি সবার অংশগ্রহণে উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। ধর্মীয় আচারাদি পালনের পাশাপাশি সবার সাথে উৎসব পালন করতে পারায় খুশী মারমা তরুণ-তরুণীরা।

এ ব‌্যাপা‌রে সাইমে প্রু, লি‌লি প্রুসহ ক‌য়েকজন মারমা তরুনী জানায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন বিহারে বিহারে উপস্থিত হয়ে সুখ শান্তি লাভ ও পারিবারিক সুস্থ‌্যতার জন্য প্রার্থনায় জড়ো হচ্ছেন। দায়ক-দায়িকারা মোমবাতি, ধুপকাটি প্রজ্বালন আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোয়াইং (বিভিন্ন ধরনের খাবার) প্রদান করে দিনটি পালন করছেন মহাআনন্দে।

এদিকে প্রবারণার ভগবান বুদ্ধের কাছে দেশবাসীর শান্তি কামনা করে রাজ গুরু বৌদ্ধ বিহারের নন্দশ্রী ভিক্ষু জানায়, আজ আমা‌দের তিনমাস বর্ষা বাস পালনের সমা‌প্তির দিন।এদি‌নে ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা আর উপাসক-উপাসিকারা গ্রহণ করছেন অষ্টশীল ও দশশীল। ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা আর উপাসক-উপাসিকারা গ্রহণ করছেন অষ্টশীল ও দশশীল। বিহারে বিহারে চলছে ধর্মীয় দেশনা ও জগতের সব প্রাণীর মঙ্গল কামনায় করা হচ্ছে বিশেষ প্রার্থনা। এদি‌নে আমরা আকাশ প্রদীপ উত্তোলন ক‌রি যা ফানুস বা‌তি না‌মে সবাই চি‌নি। এসময় তি‌নি জগ‌তের সকলের সুস্থ‌্যতা কামনা ক‌রেন এবং সু‌খি হবার জন‌্য প্রার্থনা ক‌রেন।

মূলত আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর থেকে তিনমাস বর্ষা বাস পালন শেষে শুরু হয় মারমা সম্প্রদায়ের আকর্ষণীয় এ উৎসব ওয়াগ্যোয় পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বান্দরবানে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা

Bandarban Tribune

বান্দরবানে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা

Update Time : ০২:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে পাহাড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। বিহারে বিহারে ছোয়াইং দান ও ফানুষ বাতি উড়ানোর মধ্যদিয়ে শুরু হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মাহা ওয়াগ্যোই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা। এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ী পল্লী গুলোতে চলছে নানা আয়োজন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফানুস বাতি উড়ানো ও পিঠা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ী তরুণ-তরুণীরা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব এ ওয়াগ্যোইপোয়ে বা প্রবারনা পূর্ণিমা। এ উৎসবে ভগবান বুদ্ধকে মনের আশা পুরণের জন্য কাগজে ফানুস বাতি তৈরি করে তাতে আগুন দিয়ে আকাশে উড়িয়ে নিজেদের ইচ্ছার বহি:প্রকাশ ঘটায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। তাই প্রতি বছর পূর্ণিমার তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা এ উৎসবটি পালন করে থাকে।

সোমবার সকাল থেকে প্রতিটি বিহারে ছোয়াইং দান ও সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব। উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য এলাকার মারমা পল্লী গুলোতে চলছে নানা আয়োজন।

বুদ্ধ মূর্তি স্নান হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ছোয়াইং দান পিঠা তৈরী ফানুস উড়ানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সবশেষ রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২ দিনব্যাপী মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয় পোয়ে বা প্রবারনা পূর্ণিমা। প্রবারনাকে ঘিরে পাহাড়ী বাঙালি সবার অংশগ্রহণে উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। ধর্মীয় আচারাদি পালনের পাশাপাশি সবার সাথে উৎসব পালন করতে পারায় খুশী মারমা তরুণ-তরুণীরা।

এ ব‌্যাপা‌রে সাইমে প্রু, লি‌লি প্রুসহ ক‌য়েকজন মারমা তরুনী জানায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন বিহারে বিহারে উপস্থিত হয়ে সুখ শান্তি লাভ ও পারিবারিক সুস্থ‌্যতার জন্য প্রার্থনায় জড়ো হচ্ছেন। দায়ক-দায়িকারা মোমবাতি, ধুপকাটি প্রজ্বালন আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোয়াইং (বিভিন্ন ধরনের খাবার) প্রদান করে দিনটি পালন করছেন মহাআনন্দে।

এদিকে প্রবারণার ভগবান বুদ্ধের কাছে দেশবাসীর শান্তি কামনা করে রাজ গুরু বৌদ্ধ বিহারের নন্দশ্রী ভিক্ষু জানায়, আজ আমা‌দের তিনমাস বর্ষা বাস পালনের সমা‌প্তির দিন।এদি‌নে ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা আর উপাসক-উপাসিকারা গ্রহণ করছেন অষ্টশীল ও দশশীল। ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা আর উপাসক-উপাসিকারা গ্রহণ করছেন অষ্টশীল ও দশশীল। বিহারে বিহারে চলছে ধর্মীয় দেশনা ও জগতের সব প্রাণীর মঙ্গল কামনায় করা হচ্ছে বিশেষ প্রার্থনা। এদি‌নে আমরা আকাশ প্রদীপ উত্তোলন ক‌রি যা ফানুস বা‌তি না‌মে সবাই চি‌নি। এসময় তি‌নি জগ‌তের সকলের সুস্থ‌্যতা কামনা ক‌রেন এবং সু‌খি হবার জন‌্য প্রার্থনা ক‌রেন।

মূলত আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর থেকে তিনমাস বর্ষা বাস পালন শেষে শুরু হয় মারমা সম্প্রদায়ের আকর্ষণীয় এ উৎসব ওয়াগ্যোয় পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা।