Lama ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা কক্ষ ভস্মীভূত

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কায়ুকখালী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ পুড়ে গেছে। এতে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৯টা ৫১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে বাড়ির মালিক আবদুস সালামের ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ ও একটি নেলকুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কক্ষগুলো পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাঁদের থাকার জায়গার পাশাপাশি কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রীও আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা এসব পরিবার আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

নোয়াখালীর ফোরলেনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারিদের কাজে আসছে না

Bandarban Tribune

টেকনাফে অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা কক্ষ ভস্মীভূত

Update Time : ০৮:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কায়ুকখালী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ পুড়ে গেছে। এতে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৯টা ৫১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে বাড়ির মালিক আবদুস সালামের ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ ও একটি নেলকুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কক্ষগুলো পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাঁদের থাকার জায়গার পাশাপাশি কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রীও আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা এসব পরিবার আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করেন।