Lama ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে চায়ে চেতনাভোজক খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫ বাহন

চা পানের কথা বলে কৌশলে চালককে চেতনাভোজক ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নীলফামারী জেলা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ৪টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও ১টি ইজিবাইক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে নীলফামারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর এলাকার মো. ওয়াহেদ ইসলাম (৬৫), সদর উপজেলার উত্তর পঞ্চপুকুর মাঝাপাড়া এলাকার মো. রবি ইসলাম (২৫) এবং দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার ছাতিয়ানগড় এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫)।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকালে জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাটের অটোরিকশাচালক মো. নূর ইসলাম প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে বের হন। এ সময় সাকিব ইসলাম নামের এক যুবকসহ দুজন ব্যক্তি বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘোরার কথা বলে তাঁর ভ্যানটি ভাড়া করে। দিনভর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা চালক নূর ইসলামকে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে এক চা স্টলে কৌশলে চায়ের সঙ্গে চেতনাভোজক ওষুধ খাইয়ে তাঁকে সংজ্ঞাহীন করে অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা সাকিব ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। একই সঙ্গে অসুস্থ চালক নূর ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আটক সাকিব ইসলামের স্বীকারোক্তি এবং ভুক্তভোগী চালকের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক তদন্তে নামে পুলিশ।

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খানের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম (সেবা) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পঞ্চপুকুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চক্রের অন্যতম সদস্য মফিজুল ইসলাম ওরফে হাজীকে চোরাই অটোভ্যানসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জে ওয়াহেদ ইসলামের বাড়ির আঙিনা থেকে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় আরও একটি চোরাই ভ্যান এবং জলঢাকায় রবি ইসলামের শ্বশুরের বাড়ি থেকে একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ২২ অক্টোবর বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল কেনাবেচায় জড়িত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ও আরও একটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

নোয়াখালীর ফোরলেনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারিদের কাজে আসছে না

Bandarban Tribune

নীলফামারীতে চায়ে চেতনাভোজক খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫ বাহন

Update Time : ০৫:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চা পানের কথা বলে কৌশলে চালককে চেতনাভোজক ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নীলফামারী জেলা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ৪টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও ১টি ইজিবাইক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে নীলফামারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর এলাকার মো. ওয়াহেদ ইসলাম (৬৫), সদর উপজেলার উত্তর পঞ্চপুকুর মাঝাপাড়া এলাকার মো. রবি ইসলাম (২৫) এবং দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার ছাতিয়ানগড় এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫)।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকালে জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাটের অটোরিকশাচালক মো. নূর ইসলাম প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে বের হন। এ সময় সাকিব ইসলাম নামের এক যুবকসহ দুজন ব্যক্তি বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘোরার কথা বলে তাঁর ভ্যানটি ভাড়া করে। দিনভর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা চালক নূর ইসলামকে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে এক চা স্টলে কৌশলে চায়ের সঙ্গে চেতনাভোজক ওষুধ খাইয়ে তাঁকে সংজ্ঞাহীন করে অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা সাকিব ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। একই সঙ্গে অসুস্থ চালক নূর ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আটক সাকিব ইসলামের স্বীকারোক্তি এবং ভুক্তভোগী চালকের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক তদন্তে নামে পুলিশ।

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খানের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম (সেবা) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পঞ্চপুকুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চক্রের অন্যতম সদস্য মফিজুল ইসলাম ওরফে হাজীকে চোরাই অটোভ্যানসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জে ওয়াহেদ ইসলামের বাড়ির আঙিনা থেকে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় আরও একটি চোরাই ভ্যান এবং জলঢাকায় রবি ইসলামের শ্বশুরের বাড়ি থেকে একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ২২ অক্টোবর বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল কেনাবেচায় জড়িত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ও আরও একটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।