
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারুফ বেপারি নামের শরীয়তপুরের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তাদের দাবী অনুযায়ী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গুলি হত্যা করা হয় বলে দাবী স্বজনদের।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি পরিবারের স্বজনদের জানানো হয়। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনগত রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন মারুফ।
নিহত মারুফ বেপারি (৪৫) ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানায়, জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন উপজেলার মারুফ বেপারি। সেখানে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। বুষ্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী নিরাপত্তার নামে মারুফের কাছে প্রতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ৫০০ র্যান্ড দাবি করতেন।
সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মারুফের বিরোধ হয়। এর জেরেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসী ও পরিবারের। তার মরদেহটি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনেরা।
নিহতের স্বজন কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, “চাঁদার জন্য বিদেশের মাটিতে আমার কাকা মারুফ বেপারিকে জীবন দিতে হয়েছে। ওখানকার দূতাবাস কি এগুলো দেখে না?”
দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হত্যার খবর প্রায়ই শোনা যায়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, দ্রুত মারুফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাওয়া। এ জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর 



















