Lama ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জবর দখলের অভিযোগ ​

লামা চাম্বি মৌজায় ৪ একর পুনর্বাসন ভূমির দখল হারালো মৃত রবি উল্যার পরিবার

বান্দরবানের লামা উপজেলার চাম্বি মৌজায় ১৯৮০-৮১ সালে সরকারের দেয়া ৪ একর পুনর্বাসন বন্দোবস্তির জমি খুঁজে পাচ্ছেন না প্রকৃত ওয়ারিশরা। জমি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রদান ও চিহ্নিতকরণে ভূমি প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল বানিয়ে বসত ভিটা ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ করেছেন মরহুম রবি উল্যার ওয়ারিশরা।

​ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মৃত রবি উল্যাকে চাম্বি মৌজায় ৪ একর জমি বন্দোবস্তি প্রদান করে। রবি উল্যার মৃত্যুর পর তার সন্তান ও ওয়ারিশরা নিজ পৈত্রিক ভিটা ও জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত ২০০৯ সালে স্থানীয় মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে রবি উল্যার বসত ভিটার গাছ ক্রয়ের কথা বলে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজ প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে সেই কাগজপত্রের দোহাই দিয়ে তিনি ৪ একর জমি অবৈধভাবে নিজের দখলে নেন এবং রবি উল্যার পরিবারকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।

​মৃত রবি উল্যার ওয়ারিশদের দাবি, তারা শুধু বসত ভিটার গাছ বিক্রির বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। কোনো অবস্থাতেই তারা পৈত্রিক জমি বিক্রি করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে লামা বাজারে একজন রাইটারের অফিসে নিয়ে গিয়ে গাছ বিক্রির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেন।

সেই চুক্তিকে জমি বিক্রিবায়নানামা কাগজ বানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে তাদের জমি দখল করে আছেন বলেঅভিযোগ।

এই বিষয়ে সঠিক তথ্যের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের লোকেরা একাধিকবার স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এমনকি উপজেলা ভূমি প্রশাসনও এই বন্দোবস্তিকৃত জমির সঠিক সীমানা ও তথ্য চিহ্নিত করতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ।

​এই অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পৈত্রিক ভিটা ও সরকারি বন্দোবস্তিকৃত জমি ফিরে পেতে এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী মোয়াজ্জেম হোসেনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন মুরুব্বির সাথে আলাপকালে তারাও মৃত রবিউল্যার ওয়ারিশদের উপর নানান নির্যাতন করে জমিটি জোর করে দখলে নেয়ার কথা জানান।

৮ অক্টোবর সরেজমিন অনুসন্ধানকালে, প্রবীন বাসিন্দা মোঃ আরশাদ আলী-পিতা মৃত মোঃ কালা চাঁদ গাজী জানান, ‘বর্তমানে মোয়াজ্জেম হোসেনের দখলীয় এই জায়গাতে রবি উল্যার বসত বাড়ি ছিলো। চারদিকে অনেকগুলো আম কাঠাল গাছ ছিলো। রবিউল্যার কাছাকাছি উত্তর দিকে আনুমানিক ৫/৬ শ্ মিটারের মধ্য ডলুছড়ি মৌজা

৮৫৩ নং আর হোঃ এর আমার জায়গা। এখনো সেই একই জায়গায় আমি পরিবার সন্তানাদি নিয়ে বসবাসরত আছি। কিন্তু চাম্বি মৌজার ঠিক এখানে রবিউল্যার বসত ঘর ছিলো। এখন সেই ঘরবাড়ি রবিউল্যা এবং তার কোনো ওয়ারিশও নেই।’

আবুতাহের সর্দার বলেন ভিন্ন কথা। সে বলেন, ‘রবিউল্যার ছেলে হাবিব ও স্ত্রী কন্যা বিগত জরুরী অবস্থার সময় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ গ্রুপ লিডার আজিজ এর নিকট ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে চলে যায়। পরে আজিজ লিডার মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বিক্রি করে দখল বুজিয়ে দেয়। তবে নরুর অংশ বিক্রি করেন নাই। নানান নির্যাতন সইতে না পেরে নুরু স্বপরিবারে ২০১০ সালের আগে সেখান থেকে চলে যায়। এর ৫ বছর পর হাবিবকে মারধর করে গাছ বিক্রির চুক্তির নামে ২৫০০০ টাকা দিয়ে আজিজ লিডারের সহযোগিতায় জায়গাটি দখল নেয় মোয়াজ্জেম হোসেন এর লোকজন।’

এসব বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।

সরেজমিন অনুসন্ধ্যানকালে তার কর্মচারীদের কাছে কিছু কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, কিন্তু তারা কোনো কথা বলেন নি। মনসুর নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেন রবিউল্যার ওয়ারিশদের থেকে জায়গাটি কিনে নিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামা পৌরসভায় প্রশাসনের নাকের ডগায়  পাহাড় কাটা হচ্ছে: নীরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন

Bandarban Tribune

জবর দখলের অভিযোগ ​

লামা চাম্বি মৌজায় ৪ একর পুনর্বাসন ভূমির দখল হারালো মৃত রবি উল্যার পরিবার

Update Time : ১২:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার চাম্বি মৌজায় ১৯৮০-৮১ সালে সরকারের দেয়া ৪ একর পুনর্বাসন বন্দোবস্তির জমি খুঁজে পাচ্ছেন না প্রকৃত ওয়ারিশরা। জমি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রদান ও চিহ্নিতকরণে ভূমি প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল বানিয়ে বসত ভিটা ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ করেছেন মরহুম রবি উল্যার ওয়ারিশরা।

​ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মৃত রবি উল্যাকে চাম্বি মৌজায় ৪ একর জমি বন্দোবস্তি প্রদান করে। রবি উল্যার মৃত্যুর পর তার সন্তান ও ওয়ারিশরা নিজ পৈত্রিক ভিটা ও জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত ২০০৯ সালে স্থানীয় মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে রবি উল্যার বসত ভিটার গাছ ক্রয়ের কথা বলে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজ প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে সেই কাগজপত্রের দোহাই দিয়ে তিনি ৪ একর জমি অবৈধভাবে নিজের দখলে নেন এবং রবি উল্যার পরিবারকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।

​মৃত রবি উল্যার ওয়ারিশদের দাবি, তারা শুধু বসত ভিটার গাছ বিক্রির বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। কোনো অবস্থাতেই তারা পৈত্রিক জমি বিক্রি করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে লামা বাজারে একজন রাইটারের অফিসে নিয়ে গিয়ে গাছ বিক্রির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেন।

সেই চুক্তিকে জমি বিক্রিবায়নানামা কাগজ বানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে তাদের জমি দখল করে আছেন বলেঅভিযোগ।

এই বিষয়ে সঠিক তথ্যের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের লোকেরা একাধিকবার স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এমনকি উপজেলা ভূমি প্রশাসনও এই বন্দোবস্তিকৃত জমির সঠিক সীমানা ও তথ্য চিহ্নিত করতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ।

​এই অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পৈত্রিক ভিটা ও সরকারি বন্দোবস্তিকৃত জমি ফিরে পেতে এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী মোয়াজ্জেম হোসেনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন মুরুব্বির সাথে আলাপকালে তারাও মৃত রবিউল্যার ওয়ারিশদের উপর নানান নির্যাতন করে জমিটি জোর করে দখলে নেয়ার কথা জানান।

৮ অক্টোবর সরেজমিন অনুসন্ধানকালে, প্রবীন বাসিন্দা মোঃ আরশাদ আলী-পিতা মৃত মোঃ কালা চাঁদ গাজী জানান, ‘বর্তমানে মোয়াজ্জেম হোসেনের দখলীয় এই জায়গাতে রবি উল্যার বসত বাড়ি ছিলো। চারদিকে অনেকগুলো আম কাঠাল গাছ ছিলো। রবিউল্যার কাছাকাছি উত্তর দিকে আনুমানিক ৫/৬ শ্ মিটারের মধ্য ডলুছড়ি মৌজা

৮৫৩ নং আর হোঃ এর আমার জায়গা। এখনো সেই একই জায়গায় আমি পরিবার সন্তানাদি নিয়ে বসবাসরত আছি। কিন্তু চাম্বি মৌজার ঠিক এখানে রবিউল্যার বসত ঘর ছিলো। এখন সেই ঘরবাড়ি রবিউল্যা এবং তার কোনো ওয়ারিশও নেই।’

আবুতাহের সর্দার বলেন ভিন্ন কথা। সে বলেন, ‘রবিউল্যার ছেলে হাবিব ও স্ত্রী কন্যা বিগত জরুরী অবস্থার সময় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ গ্রুপ লিডার আজিজ এর নিকট ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে চলে যায়। পরে আজিজ লিডার মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বিক্রি করে দখল বুজিয়ে দেয়। তবে নরুর অংশ বিক্রি করেন নাই। নানান নির্যাতন সইতে না পেরে নুরু স্বপরিবারে ২০১০ সালের আগে সেখান থেকে চলে যায়। এর ৫ বছর পর হাবিবকে মারধর করে গাছ বিক্রির চুক্তির নামে ২৫০০০ টাকা দিয়ে আজিজ লিডারের সহযোগিতায় জায়গাটি দখল নেয় মোয়াজ্জেম হোসেন এর লোকজন।’

এসব বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।

সরেজমিন অনুসন্ধ্যানকালে তার কর্মচারীদের কাছে কিছু কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, কিন্তু তারা কোনো কথা বলেন নি। মনসুর নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেন রবিউল্যার ওয়ারিশদের থেকে জায়গাটি কিনে নিয়েছেন।