Lama ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর চুপ

লামা পৌরসভায় প্রশাসনের নাকের ডগায়  পাহাড় কাটা হচ্ছে: নীরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন

বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোনো ধরনের আইনি বাধা-নিষেধের তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। স্থানীয়  মোঃ নবী নামের এক ব্যক্তি ভ্যাকুয়ান- এস্কাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে পাচার করছে। প্রতিনিয়ত পাহাড় নিধনের এই তাণ্ডব চললেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর ও লামা উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ পেয়েও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাস্থল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডস্থ টিটি এন্ড ডিসি সংলগ্ন লামা-সুয়ালক সড়ক ঘেঁষে বমুখালের তীরবর্তী একটি পাহাড় অর্ধেকটা কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে  পাহাড় কাটার ঘটনা সচেতন সমাজকে বিস্ময়ে হতবাক করছে। পাহাড় ধ্বংস করা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং বর্ষাকালে মারাত্মক পাহাড় ধসে প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ কিংবা কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় লোক বলেন, “প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন যেন চোখ বন্ধ করে আছে। জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া তাদের দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ দেয়।”

​পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন যেকোনো ধরনের পাহাড় বা টিলা কাটা বা রূপান্তর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ লামায় আইন প্রয়োগের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনবল সংকট হেতু পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারাও বরাবরের মতো ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে অভিযান করা হবে, আশ্বাস দিয়েই দায় শেষ করেন।

পরিবেশবাদীদের মতে, এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে যারা পাহাড় কাটছে এবং যাদের অবহেলার কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামা পৌরসভায় প্রশাসনের নাকের ডগায়  পাহাড় কাটা হচ্ছে: নীরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন

Bandarban Tribune

প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর চুপ

লামা পৌরসভায় প্রশাসনের নাকের ডগায়  পাহাড় কাটা হচ্ছে: নীরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন

Update Time : ০৫:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোনো ধরনের আইনি বাধা-নিষেধের তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। স্থানীয়  মোঃ নবী নামের এক ব্যক্তি ভ্যাকুয়ান- এস্কাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে পাচার করছে। প্রতিনিয়ত পাহাড় নিধনের এই তাণ্ডব চললেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর ও লামা উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ পেয়েও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাস্থল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডস্থ টিটি এন্ড ডিসি সংলগ্ন লামা-সুয়ালক সড়ক ঘেঁষে বমুখালের তীরবর্তী একটি পাহাড় অর্ধেকটা কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে  পাহাড় কাটার ঘটনা সচেতন সমাজকে বিস্ময়ে হতবাক করছে। পাহাড় ধ্বংস করা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং বর্ষাকালে মারাত্মক পাহাড় ধসে প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ কিংবা কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় লোক বলেন, “প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন যেন চোখ বন্ধ করে আছে। জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া তাদের দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ দেয়।”

​পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন যেকোনো ধরনের পাহাড় বা টিলা কাটা বা রূপান্তর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ লামায় আইন প্রয়োগের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনবল সংকট হেতু পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারাও বরাবরের মতো ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে অভিযান করা হবে, আশ্বাস দিয়েই দায় শেষ করেন।

পরিবেশবাদীদের মতে, এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে যারা পাহাড় কাটছে এবং যাদের অবহেলার কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।