Lama ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: চরফ্যাশনে ৩৫ হাজার জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জীবিকা সংকটে পড়া প্রান্তিক জেলেদের সহায়তায় ভোলার চরফ্যাশনে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারি চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে এই চাল বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ।

এ সময় জেলেদের পরিচয়পত্র ও কার্ড যাচাই করে প্রত্যেকের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চরফ্যাশন উপজেলার নিবন্ধিত ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

চাল পেয়ে জিন্নাগড় ইউনিয়নের জেলে হারুন মোল্লা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা পাইনি। এখন ইলিশ আহরণের সম্ভাবনাময় সময় এলেও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সরকারি নিন্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছি। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে লাগাব। সরকারের খাদ্যসহায়তা আমাদের এই সংকটের সময়ে কিছুটা স্বস্তি দেবে। সবাই নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও উপকৃত হবেন।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে জেলেদের মাঝে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিন্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরফ্যাশনের তালিকাভুক্ত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যেন সরকারি নিন্দেশনা মেনে চলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”

সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী ও সাগরে প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান ও সার্বক্ষণিক বিশেষ টহল অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমে মাসব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ

Bandarban Tribune

মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: চরফ্যাশনে ৩৫ হাজার জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

Update Time : ০৭:২৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জীবিকা সংকটে পড়া প্রান্তিক জেলেদের সহায়তায় ভোলার চরফ্যাশনে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারি চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে এই চাল বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ।

এ সময় জেলেদের পরিচয়পত্র ও কার্ড যাচাই করে প্রত্যেকের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চরফ্যাশন উপজেলার নিবন্ধিত ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

চাল পেয়ে জিন্নাগড় ইউনিয়নের জেলে হারুন মোল্লা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা পাইনি। এখন ইলিশ আহরণের সম্ভাবনাময় সময় এলেও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সরকারি নিন্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছি। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে লাগাব। সরকারের খাদ্যসহায়তা আমাদের এই সংকটের সময়ে কিছুটা স্বস্তি দেবে। সবাই নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও উপকৃত হবেন।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে জেলেদের মাঝে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিন্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরফ্যাশনের তালিকাভুক্ত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যেন সরকারি নিন্দেশনা মেনে চলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”

সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী ও সাগরে প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান ও সার্বক্ষণিক বিশেষ টহল অব্যাহত থাকবে।