
লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারসহ আহত ও ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ৬৩ জনের মাঝে ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেছেন বনবিভাগ। ৪ অক্টোবর রোববার সকাল ১১ টায় এই উপলক্ষে লামা বনবিভাগে ডাকবাংলোতে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বনসংরক্ষক মোঃ আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, হাতি ও মানুষের মধ্যে মৈত্রি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন ও টেকসই সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে নানান দিক ব্যাখ্যা করেন তিনি। প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব একটি প্রকট সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। খাদ্যসংকট, আবাসস্থল বিনাশ এবং চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় বুনো হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। এতে যেমন প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ক্ষুব্ধ হয়ে মানুষ কর্তৃক হাতি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এই সংকট নিরসনে প্রতিহত করার মানসিকতা ছেড়ে সহাবস্থান নীতি গ্রহণ করা অপরিহার্য।
প্রধান বন সংরক্ষক আরো বলেন, বন উজাড়, পাহাড়ে যত্রতত্র বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে হাতির প্রাকৃতিক যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বনের স্বাভাবিক ফলজ ও খাদ্য উপযোগী গাছ কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাতির দল লোকালয়ে ফসলের ক্ষেত বা বাসাবাড়িতে হামলা চালায়। হাতির মুখোমুখি হলে কীভাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয় বা শান্ত থাকতে হয়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে।

এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT) শক্তিশালী করণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদেরকে নিয়ে ভলান্টিয়ার টিম গঠন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (যেমন: উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টর্চলাইট, সাইরেন, জিপিএস ট্রাক ট্র্যাকার) সরবরাহ করা হবে।
প্রথাগত হাতি করিডোরগুলো থেকে অবৈধ দখলদারিত্ব দূর করে তা আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার কথা বলেন। বনে হাতির প্রিয় খাদ্য (যেমন: কলাগাছ, বাঁশ, বুনো ঘাস, তেঁতুল ও বিভিন্ন ফলজ গাছ) ব্যাপকভাবে রোপণ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে (প্রাণহানি বা ফসলের ক্ষতি) সরকারি অনুদান বা ক্ষতিপূরণ আরো বৃদ্ধ ও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত উপায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, হাতি পরিবেশতন্ত্র ও বন সংরক্ষণের জন্য অন্যতম প্রধান নির্দেশক। হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, আর বন বাঁচলে পরিবেশ ও মানুষের জীবন সুরক্ষায় থাকবে। তাই প্রতিহত বা হত্যা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, সামাজিক সচেতনতা এবং সঠিক বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ ও হাতির একটি নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন, লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইছার হামিদ। জেলা সহকারী তথ্য অফিসার (লামা সার্কেল) মোঃ রাসেদুল ইসলাম রাসেদ এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগতিক বক্তব্য দেন, লামা বনবিভাগের এসিএফ মাসুম আলম, সরই ইউনিয়নের ই আর টি দল প্রধান নবী হোসেন, হাতির আক্রমনে নিহতের স্ত্রী রুবি আক্তার, ক্ষতিগ্রস্ত বেলাল উদ্দিন।
সহযোগিতা পেয়ে বনবিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, বনো হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রসাত পরিবারগুলো।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 

















