
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায় অফিস সহকারী পদে মোঃ মোবারক হোসেনের নিয়োগ নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শেষে তাঁর নাম এমপিওভুক্ত তালিকা থেকে কর্তন করা হয়েছে। তদন্তে তাঁর নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিষয় উঠে আসার পর মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদরাসাটির বৈধ অফিস সহকারী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক তাঁর পদ ও নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের পর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে তদন্তের আওতায় আসে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকালে মোবারক হোসেনের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, রেজুলেশন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নাম এমপিওভুক্ত তালিকা থেকে কর্তন করা হয়।
অভিযোগকারী আবু বকর সিদ্দিকের দাবি, তিনি মাদরাসাটির বৈধ অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মাদরাসার তৎকালীন সুপার (বর্তমানে কলসপাড় নঈমী দাখিল মাদরাসার সুপার) মোঃ আব্দুস সামাদ এমপিও কপিতে তাঁর পদ পরিবর্তন করে জুনিয়র শিক্ষক দেখানোর পর তাঁর পদে মোবারক হোসেনকে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি পরে এমপিও কপিতে মোবারক হোসেনের নাম দেখতে পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
আবু বকর সিদ্দিক আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন সহকারী সুপার মোঃ আব্দুস সামাদ মোবারক হোসেনকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ওই নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হলে অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমপিও থেকে মোবারক হোসেনের নাম কর্তন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, অভিযোগটি দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রশাসনিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে ছিল। তৎকালীন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববির প্রশাসনিক উদ্যোগে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে যায়। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে মোঃ মোবারক হোসেন কিংবা তৎকালীন নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর 














