Lama ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোট জব্দ: ৭৬ জন উদ্ধারসহ, ১১ দালাল আটক

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোট জব্দ: ৭৬ জন উদ্ধারসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সমুদ্রে নিয়মিত টহলকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ এ অভিযান পরিচালনা করে।

সেন্টমার্টিন লাইটহাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানায় এফভি ক্রিস্টাল-১।

এ সময় সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিলেন। পরে তাঁদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত ছিল।

আটক ব্যক্তিদের ও জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সফল অভিযানের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় এতে থাকা যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষায় নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব, অপারেশনাল সক্ষমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে জমকালো প্রীতি ফুটবল ম্যাচে উগলছড়ি তরুণ সংঘের জয়

Bandarban Tribune

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোট জব্দ: ৭৬ জন উদ্ধারসহ, ১১ দালাল আটক

Update Time : ১২:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোট জব্দ: ৭৬ জন উদ্ধারসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সমুদ্রে নিয়মিত টহলকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ এ অভিযান পরিচালনা করে।

সেন্টমার্টিন লাইটহাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানায় এফভি ক্রিস্টাল-১।

এ সময় সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটি উদ্ধার করে। বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিলেন। পরে তাঁদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত ছিল।

আটক ব্যক্তিদের ও জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সফল অভিযানের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় এতে থাকা যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষায় নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব, অপারেশনাল সক্ষমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।