Lama ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে আমি বাইব না...

আলীকদম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার গল্প

মহান স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে সাম্য, মৈত্রি, সম্প্রীতি-মূল্যবোধ, সমাজ উন্নয়ন, বৈচিত্রময় কৃষ্টি-কালচার বজায় রাখার এক দৃড় প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি লেখকের প্রচেষ্টায়, সাবেক সভাপতি জনাব মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আবু শামা, শ্রী উচ্চতমনি তংঞ্চঙ্গাসহ কয়েকজনের শ্রমে আলীকদম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এর আগে এই উপজেলায় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন কয়েকজন। কিন্তু লামা-আলীকদম নাম করণে লামায় একটি প্রেসক্লাব থাকায় তা হয়ে উঠেনি।

কালতিক্রমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতাকে কেউ কখনো ব্যাহত করতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে সময়ের দাবী পূরণ করে আলীকদমে প্রতিষ্ঠিত হয় সাংবাদিকদের মিলনস্থল আলীকদম প্রেসক্লাব।গণমানুষের অধিকার, এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্য, বর্ণময় সভ্যতার নানান দিক নিয়ে লেখনিতে এখানকার সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।

এই জনপদে পরিমার্জিত এবং সৃজনশীল লেখনির স্বীকৃতি অর্জনে এই প্রেসক্লাবের সংবাদ কর্মিরা অনবধ্য। সাহসি সাংবাদিকতায় তারা সু-নাম কুড়িয়েছেন অনেক। উন্নয়ন সম্ভাবনা, অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদ প্রেরণে সাংবাদিকরা সর্বদা সজাগ থাকে। একই সাথে সাহিত্য চর্চায়, বুদ্ধিদীপ্ত চেতণা লালন করে এলাকায় শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে পেশাগত উৎকর্ষতার নিদর্শন স্থাপন করে যাচ্ছেন সংবাদ কর্মিরা।

আলীকদম প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রেরণের পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমস্যা-সম্ভাবনা, স্থানীয়দের জীবনাচার, নৃ-গোষ্টির কৃষ্টি-কালচার নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশনা করে মফস্বল সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি উজ্জল করেছেন।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর লেখা পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়। তার ক্ষুরধার তীক্ষ্ণ-লেখনির আঁছড়ে সমাজ মানসে লাগা কলঙ্কের ছাপ যেমনি উঠে যায়; তেমনি ঘুমিয়ে থাকা সমাজ বিবেক জেগে উঠে।

সাংবাদিকতার এই মহান পেশায় যাঁরা উপজেলা পর্যায়ে লেখালেখি করেন, তারা প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। সীমিত এলাকা, চেনা-জানা সবাইকে নিয়ে চলাই হলো মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই অ-শিক্ষা, কু-শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতির নীতিহীন প্রতিযোগিতার যাঁতাকলে নিষ্পিসনের শিকার হতে হয় সাংবাদিকদেরকে। শহর-বন্দরে সাংবাদিকদের এসব প্রতিকুলতার শিকার হতে হয়না। প্রযুক্তিগতভাবেও জেলা শহর ও নগরের সাংবাদিকরা ব্যাপক সুবিধার অংশিদার আগে থেকে।

আস্তে আস্তে বাংলাদেশ এখন বিশ্বায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে; সে সুবাধে প্রযুক্তির বিকাশ সাধন হয়ে এখন মফস্বলেও এর সু-বাতাশ বইছে। সে ধারাবাহিকতায় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে আলীকদম প্রেসক্লাবে।

এক সময় উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কিছুটা সহযোগিতা পেলেও এখানকার সংবাদ কর্মিরা আর কোন মহল থেকে সহযোগিতা পায়নি। এর উপর সত্য প্রকাশে অনেক সময় প্রশাসন ও নেতা-পাতি নেতাদের চোখ রাঙানী সইতে হয়। মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সাংবাদিকদেরকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে।

প্রেসক্লাবের উত্তারাংশের ভবন নির্মাণকালে ২০০৭ সালে একটি মহলের লেলিয়ে দেয়া কতিপয় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল আমি এবং সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর উপর। আজকের প্রেসক্লাব চত্বরে কয়েকফোটা রক্ত ঝরেছিল লেখক প্রেসক্লাব সভাপতির।এখনো আমার বাম হাতের কব্জিতে সে চিহ্ন রয়েগেছে। যে রক্তের চিহ্নটির উপর দাড়িয়ে আছে আজকের আলীকদম প্রেসক্লাব।

হামলার পর ৫ বছর মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে হয়েছে আমাদের ২জনকে। এর পর থেকে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে প্রেসক্লাব সদস্যদের চরিত্র হননের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সেসব ষড়যন্ত্রকারীরা প্রেসক্লাবের ঐক্য নস্যাৎ করার জন্য এখনো নানান পন্থায় সক্রিয় রয়েছে।

আলীকদম প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা: ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী মাসে প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা কমিটি: যথাক্রমে মো.কামরুহজ্জামান, আবু শামা, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। ওই কমিটির সহযোগি সদস্য ছিলেন- মংক্যানু মার্মা, মো: আইয়ুব, জমি উদ্দিন,(জসিম)  ধুংড়িমং মার্মা।

২০০০ সালে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল মাহমুদ আলীকদম প্রেসক্লাব-এর প্রথম পূর্নাঙ্গ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিনআহমেদ, সহসভাপতি  আবু শামা, সিনিয়র সহসভাপতি শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা। আলীকদম গন পাঠাগার থেকে প্রথম  প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।

এর আগে ১৯৯৮ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি একটি কাগজে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন; মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ আবুশামা, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা, মোঃ আইয়ুব, ধুংড়ি মং মার্মা ও জসিম উদ্দিন।

১৪ ফেব্রুয়ারি’৯৮ সালে দৈনিক আজকের কাগজে “আলীকদম প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এর ১ মাস পর প্রথম সভা আহ্বান করা হয়। সভাস্থল ছিলো আলীকদম পানবাজার সড়কে অবস্থিত টাউন হল মাঠ।

প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব না থাকায়, আলীকদম জেলা পরিষদ রেষ্ট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলাম; লেখক আজকের কাগজ প্রতিনিধি, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ(দৈনিক কর্ণফুলী প্রতিনিধি) আবু শামা চকোরী প্রতিনিধি, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা দেশ বাংলা প্রতিনিধি। ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে কমিটিতে অন্তরভুক্ত করা হয়।

এর পর লেখালেখিতে যুক্ত হওয়ায়; দেশমনি তঞ্চঙ্গা, জগদিশ তঞ্চঙ্গা, কিছুদিন পর এসএম আজিজকে সদস্য করা হয়। লেখালেখিতে যুক্ত না হওয়ায় অন্যরা বাদ যায় প্রেসক্লাব কমিটি থেকে। ২০০১ সালে প্রেসক্লাবে গঠনতন্ত্র অনুমোদন হয়। মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গঠনতন্ত্রটি লেখা হয়।

১৯৯৯ সালে আলীকদম মৌজার হেডম্যান বাবু থোয়াগ্য মার্মা প্রেসক্লাবের অনুকুলে (পরিত্যাক্ত) খাস জমির রিপোর্ট প্রদান করেন। ওই সময় তাঁর ছেলে বাবু ঐক্যমং চৌধুরী রিপোর্টটি তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন।

২০০০ সালে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব ইকবাল মাহমুদ প্রেসক্লাব ভবন (টিনসেট) উদ্বোধন করেন। এর আগে ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে আলীকদম ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র’র নামে বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৮০ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়। আলীকদম প্রেসক্লাব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল মাহমুদ।

২০০১ সালে আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আনোয়ারুল মিল্লাত প্রেসক্লাবে একটি কালার টিভি ক্রয়ের জন্য মৈত্রিকার্যক্রমের আওতায় অনুদান প্রদান করেন।

২০০১ সালে বিএনপি নেত্রী মা ম্যা চিং মার্মা জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রেসক্লাবের পূর্ব-পশ্চিম লম্ববান দক্ষিণমুখি ভবনটি নির্মাণ বরাদ্দ দেন। এই বরাদ্দ বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু হলে স্থানীয় বিএনপির নেতা মনছুর ইউনুছসহ ক’জনে মা ম্যাচিং এর দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক আলীকদম প্রেসক্লাব ভবনটি নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করার তাগাদা দেন।

প্রেসক্লাবের প্রথম পাকা অবকাঠামোর ভিত্তির প্রস্তর স্থাপনকালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুখ আহমেদ নিজে দাড়িয়ে থেকে কায্রক্রম তদারকি করেন।

২০০৩ সালে আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল ফোরকানুল ইসলাম (বর্তমানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান) আসবাবপত্র প্রদান করেন। এর পর জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আজিম উল্ল্যাহ বাহার বিভিন্নভাবে প্রেসক্লাবকে সহায়তা করতে থাকেন।

২০০৬ সালে জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ প্রেসক্লাব চত্বর ঘীরে সীমানা পিলার স্থাপন করে ক্লাবের অস্তিত্বের শেকড় মজবুত করে দেন। একই বছর জেলা পরিষদ থেকে প্রেসক্লাবের পূর্ব পাশের (যেটি এখন রিপোর্টিং কাম হল রুম) ভবনটি সম্প্রসারণ বরাদ্দ দেন। কাজ শরু হলে ২৬ শে মার্চ প্রেসক্লাব সদস্যদের উপর একইদিন দু’বার করে বর্বরোচিত হামলা হয়েছিল।

ওই সময় অত্যান্ত ধৈর্য্য ও রুহুল আমিন (সাবেক সভাপতির ভাই) সাহসিকতার সাথে সাংবাদিকদের পক্ষাবলম্বন করে হামলাকারীদেরকে তাড়া করেছিল।

প্রেসক্লাব সদস্যরা সেদিনগুলো থেকে অদ্যবধি নানান ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে চলছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের চোখ রাঙানী সইতে হয়েছিল। এখনো সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

২০১২ সালে বান্দরবান জেলা পরিষদ প্রেসক্লাবের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আলীকদম সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় প্রেসক্লাবের ঘেরা-গেইট নির্মাণ করে দেয়া হয়।

এই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের লেখনিতে উঠে আসে আলীকদম উপজেলার গুরুত্বপূর্ন তথ্যাবলি। এলাকায়, শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশ সাধিত হতে থাকে প্রেসক্লাব থেকে। উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা, নয়াপাড়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার রুপরেখা এই প্রেসক্লাবে বসেই করা হয়েছিল।

প্রেসক্লাবের সদস্যরা গঠন করেন মানবাধিকার সংগঠন, এলাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ প্রস্তাব করেন। ক্লাবের সদস্যরা প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, পাঠাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

সংবাদকর্মীদের সমন্বয়, সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় আলীকদম প্রেসক্লাব এখন পাকা ভবন। স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিতে এ প্রেসক্লাব সচেতনতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসক্লাবে প্রতি তিন বছর পর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও সুনামকে অক্ষুন্ন রেখেই অন্তত: সততার সাথে অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করছে সংবাদকর্মীরা। এর সুফল পাচ্ছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী। সাংবাদিকতার অগ্রগতির পাশাপাশি নানা সীমাবদ্ধতাও বিদ্যমান।

বিগত দিন থেকে জগন্য, জটিল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে প্রেসক্লাব সদস্যরা। সমাজ উন্নয়ন বিরোধী চক্রের গভীর ও হীন ষড়যন্ত্রে সাংবাদিকদের ওপর হয়েছে মামলা-হামলা। এখনো সক্রিয় রয়েছে  উন্নয়ন ও সমাজ বিরোধী ওইসব ষড়যন্ত্রকারীরা।

কৃতজ্ঞতার সাথে আলীকদম প্রেসক্লাবের সদস্যরা সেসব গুনিজনদের স্বরণ করছে; যাঁদের নানা উৎসাহ-উদারতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই উপজেলার গণমাধ্যম কর্মিদের মিলনস্থল “আলীকদম প্রেসক্লাব।”

লেখক: মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, সভাপতি লামা প্রেসক্লাব, সাবেক সভাপতি, প্রতিষ্ঠাতা আলীকদম প্রেসক্লাব।

২১সেপ্টেম্বর/২০২৬

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

পানছড়িতে বিএনপির সাংগঠনিক সভা তৃণমূলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান

Bandarban Tribune

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে আমি বাইব না...

আলীকদম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার গল্প

Update Time : ০৪:১৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহান স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে সাম্য, মৈত্রি, সম্প্রীতি-মূল্যবোধ, সমাজ উন্নয়ন, বৈচিত্রময় কৃষ্টি-কালচার বজায় রাখার এক দৃড় প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি লেখকের প্রচেষ্টায়, সাবেক সভাপতি জনাব মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আবু শামা, শ্রী উচ্চতমনি তংঞ্চঙ্গাসহ কয়েকজনের শ্রমে আলীকদম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এর আগে এই উপজেলায় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন কয়েকজন। কিন্তু লামা-আলীকদম নাম করণে লামায় একটি প্রেসক্লাব থাকায় তা হয়ে উঠেনি।

কালতিক্রমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতাকে কেউ কখনো ব্যাহত করতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে সময়ের দাবী পূরণ করে আলীকদমে প্রতিষ্ঠিত হয় সাংবাদিকদের মিলনস্থল আলীকদম প্রেসক্লাব।গণমানুষের অধিকার, এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্য, বর্ণময় সভ্যতার নানান দিক নিয়ে লেখনিতে এখানকার সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।

এই জনপদে পরিমার্জিত এবং সৃজনশীল লেখনির স্বীকৃতি অর্জনে এই প্রেসক্লাবের সংবাদ কর্মিরা অনবধ্য। সাহসি সাংবাদিকতায় তারা সু-নাম কুড়িয়েছেন অনেক। উন্নয়ন সম্ভাবনা, অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদ প্রেরণে সাংবাদিকরা সর্বদা সজাগ থাকে। একই সাথে সাহিত্য চর্চায়, বুদ্ধিদীপ্ত চেতণা লালন করে এলাকায় শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে পেশাগত উৎকর্ষতার নিদর্শন স্থাপন করে যাচ্ছেন সংবাদ কর্মিরা।

আলীকদম প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রেরণের পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমস্যা-সম্ভাবনা, স্থানীয়দের জীবনাচার, নৃ-গোষ্টির কৃষ্টি-কালচার নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশনা করে মফস্বল সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি উজ্জল করেছেন।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর লেখা পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়। তার ক্ষুরধার তীক্ষ্ণ-লেখনির আঁছড়ে সমাজ মানসে লাগা কলঙ্কের ছাপ যেমনি উঠে যায়; তেমনি ঘুমিয়ে থাকা সমাজ বিবেক জেগে উঠে।

সাংবাদিকতার এই মহান পেশায় যাঁরা উপজেলা পর্যায়ে লেখালেখি করেন, তারা প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। সীমিত এলাকা, চেনা-জানা সবাইকে নিয়ে চলাই হলো মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই অ-শিক্ষা, কু-শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতির নীতিহীন প্রতিযোগিতার যাঁতাকলে নিষ্পিসনের শিকার হতে হয় সাংবাদিকদেরকে। শহর-বন্দরে সাংবাদিকদের এসব প্রতিকুলতার শিকার হতে হয়না। প্রযুক্তিগতভাবেও জেলা শহর ও নগরের সাংবাদিকরা ব্যাপক সুবিধার অংশিদার আগে থেকে।

আস্তে আস্তে বাংলাদেশ এখন বিশ্বায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে; সে সুবাধে প্রযুক্তির বিকাশ সাধন হয়ে এখন মফস্বলেও এর সু-বাতাশ বইছে। সে ধারাবাহিকতায় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে আলীকদম প্রেসক্লাবে।

এক সময় উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কিছুটা সহযোগিতা পেলেও এখানকার সংবাদ কর্মিরা আর কোন মহল থেকে সহযোগিতা পায়নি। এর উপর সত্য প্রকাশে অনেক সময় প্রশাসন ও নেতা-পাতি নেতাদের চোখ রাঙানী সইতে হয়। মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সাংবাদিকদেরকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে।

প্রেসক্লাবের উত্তারাংশের ভবন নির্মাণকালে ২০০৭ সালে একটি মহলের লেলিয়ে দেয়া কতিপয় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল আমি এবং সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর উপর। আজকের প্রেসক্লাব চত্বরে কয়েকফোটা রক্ত ঝরেছিল লেখক প্রেসক্লাব সভাপতির।এখনো আমার বাম হাতের কব্জিতে সে চিহ্ন রয়েগেছে। যে রক্তের চিহ্নটির উপর দাড়িয়ে আছে আজকের আলীকদম প্রেসক্লাব।

হামলার পর ৫ বছর মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে হয়েছে আমাদের ২জনকে। এর পর থেকে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে প্রেসক্লাব সদস্যদের চরিত্র হননের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সেসব ষড়যন্ত্রকারীরা প্রেসক্লাবের ঐক্য নস্যাৎ করার জন্য এখনো নানান পন্থায় সক্রিয় রয়েছে।

আলীকদম প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা: ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী মাসে প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা কমিটি: যথাক্রমে মো.কামরুহজ্জামান, আবু শামা, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। ওই কমিটির সহযোগি সদস্য ছিলেন- মংক্যানু মার্মা, মো: আইয়ুব, জমি উদ্দিন,(জসিম)  ধুংড়িমং মার্মা।

২০০০ সালে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল মাহমুদ আলীকদম প্রেসক্লাব-এর প্রথম পূর্নাঙ্গ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিনআহমেদ, সহসভাপতি  আবু শামা, সিনিয়র সহসভাপতি শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা। আলীকদম গন পাঠাগার থেকে প্রথম  প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।

এর আগে ১৯৯৮ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি একটি কাগজে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন; মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ আবুশামা, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা, মোঃ আইয়ুব, ধুংড়ি মং মার্মা ও জসিম উদ্দিন।

১৪ ফেব্রুয়ারি’৯৮ সালে দৈনিক আজকের কাগজে “আলীকদম প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এর ১ মাস পর প্রথম সভা আহ্বান করা হয়। সভাস্থল ছিলো আলীকদম পানবাজার সড়কে অবস্থিত টাউন হল মাঠ।

প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব না থাকায়, আলীকদম জেলা পরিষদ রেষ্ট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলাম; লেখক আজকের কাগজ প্রতিনিধি, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ(দৈনিক কর্ণফুলী প্রতিনিধি) আবু শামা চকোরী প্রতিনিধি, শ্রী উচ্চতমনি তঞ্চঙ্গা দেশ বাংলা প্রতিনিধি। ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে কমিটিতে অন্তরভুক্ত করা হয়।

এর পর লেখালেখিতে যুক্ত হওয়ায়; দেশমনি তঞ্চঙ্গা, জগদিশ তঞ্চঙ্গা, কিছুদিন পর এসএম আজিজকে সদস্য করা হয়। লেখালেখিতে যুক্ত না হওয়ায় অন্যরা বাদ যায় প্রেসক্লাব কমিটি থেকে। ২০০১ সালে প্রেসক্লাবে গঠনতন্ত্র অনুমোদন হয়। মমতাজ উদ্দিন আহমেদ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গঠনতন্ত্রটি লেখা হয়।

১৯৯৯ সালে আলীকদম মৌজার হেডম্যান বাবু থোয়াগ্য মার্মা প্রেসক্লাবের অনুকুলে (পরিত্যাক্ত) খাস জমির রিপোর্ট প্রদান করেন। ওই সময় তাঁর ছেলে বাবু ঐক্যমং চৌধুরী রিপোর্টটি তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন।

২০০০ সালে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব ইকবাল মাহমুদ প্রেসক্লাব ভবন (টিনসেট) উদ্বোধন করেন। এর আগে ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে আলীকদম ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র’র নামে বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৮০ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়। আলীকদম প্রেসক্লাব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল মাহমুদ।

২০০১ সালে আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আনোয়ারুল মিল্লাত প্রেসক্লাবে একটি কালার টিভি ক্রয়ের জন্য মৈত্রিকার্যক্রমের আওতায় অনুদান প্রদান করেন।

২০০১ সালে বিএনপি নেত্রী মা ম্যা চিং মার্মা জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রেসক্লাবের পূর্ব-পশ্চিম লম্ববান দক্ষিণমুখি ভবনটি নির্মাণ বরাদ্দ দেন। এই বরাদ্দ বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু হলে স্থানীয় বিএনপির নেতা মনছুর ইউনুছসহ ক’জনে মা ম্যাচিং এর দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক আলীকদম প্রেসক্লাব ভবনটি নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করার তাগাদা দেন।

প্রেসক্লাবের প্রথম পাকা অবকাঠামোর ভিত্তির প্রস্তর স্থাপনকালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুখ আহমেদ নিজে দাড়িয়ে থেকে কায্রক্রম তদারকি করেন।

২০০৩ সালে আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল ফোরকানুল ইসলাম (বর্তমানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান) আসবাবপত্র প্রদান করেন। এর পর জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আজিম উল্ল্যাহ বাহার বিভিন্নভাবে প্রেসক্লাবকে সহায়তা করতে থাকেন।

২০০৬ সালে জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ প্রেসক্লাব চত্বর ঘীরে সীমানা পিলার স্থাপন করে ক্লাবের অস্তিত্বের শেকড় মজবুত করে দেন। একই বছর জেলা পরিষদ থেকে প্রেসক্লাবের পূর্ব পাশের (যেটি এখন রিপোর্টিং কাম হল রুম) ভবনটি সম্প্রসারণ বরাদ্দ দেন। কাজ শরু হলে ২৬ শে মার্চ প্রেসক্লাব সদস্যদের উপর একইদিন দু’বার করে বর্বরোচিত হামলা হয়েছিল।

ওই সময় অত্যান্ত ধৈর্য্য ও রুহুল আমিন (সাবেক সভাপতির ভাই) সাহসিকতার সাথে সাংবাদিকদের পক্ষাবলম্বন করে হামলাকারীদেরকে তাড়া করেছিল।

প্রেসক্লাব সদস্যরা সেদিনগুলো থেকে অদ্যবধি নানান ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে চলছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের চোখ রাঙানী সইতে হয়েছিল। এখনো সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

২০১২ সালে বান্দরবান জেলা পরিষদ প্রেসক্লাবের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আলীকদম সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় প্রেসক্লাবের ঘেরা-গেইট নির্মাণ করে দেয়া হয়।

এই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের লেখনিতে উঠে আসে আলীকদম উপজেলার গুরুত্বপূর্ন তথ্যাবলি। এলাকায়, শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশ সাধিত হতে থাকে প্রেসক্লাব থেকে। উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা, নয়াপাড়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার রুপরেখা এই প্রেসক্লাবে বসেই করা হয়েছিল।

প্রেসক্লাবের সদস্যরা গঠন করেন মানবাধিকার সংগঠন, এলাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ প্রস্তাব করেন। ক্লাবের সদস্যরা প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, পাঠাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

সংবাদকর্মীদের সমন্বয়, সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় আলীকদম প্রেসক্লাব এখন পাকা ভবন। স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিতে এ প্রেসক্লাব সচেতনতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসক্লাবে প্রতি তিন বছর পর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও সুনামকে অক্ষুন্ন রেখেই অন্তত: সততার সাথে অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করছে সংবাদকর্মীরা। এর সুফল পাচ্ছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী। সাংবাদিকতার অগ্রগতির পাশাপাশি নানা সীমাবদ্ধতাও বিদ্যমান।

বিগত দিন থেকে জগন্য, জটিল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে প্রেসক্লাব সদস্যরা। সমাজ উন্নয়ন বিরোধী চক্রের গভীর ও হীন ষড়যন্ত্রে সাংবাদিকদের ওপর হয়েছে মামলা-হামলা। এখনো সক্রিয় রয়েছে  উন্নয়ন ও সমাজ বিরোধী ওইসব ষড়যন্ত্রকারীরা।

কৃতজ্ঞতার সাথে আলীকদম প্রেসক্লাবের সদস্যরা সেসব গুনিজনদের স্বরণ করছে; যাঁদের নানা উৎসাহ-উদারতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই উপজেলার গণমাধ্যম কর্মিদের মিলনস্থল “আলীকদম প্রেসক্লাব।”

লেখক: মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, সভাপতি লামা প্রেসক্লাব, সাবেক সভাপতি, প্রতিষ্ঠাতা আলীকদম প্রেসক্লাব।

২১সেপ্টেম্বর/২০২৬