
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাত উপজেলার মধ্যে জনসংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে লামা উপজেলা। জেলার মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ১০৬ জন মানুষের মধ্যে লামাতেই বসবাস করেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮১ জন। অর্থাৎ জেলার মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বসবাস এই উপজেলায়।

জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বান্দরবান সদর এবং তৃতীয় নাইক্ষ্যংছড়ি। ফলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও উন্নততর স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের আলোচনায় লামার জনমিতিক গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রাপ্ত জনসংখ্যার তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাত উপজেলার মধ্যে জনসংখ্যার চিত্র হলো;

লামা ১,৩৯,৬৮১ জন, বান্দরবান সদর ১,১১,০৯৬ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৭৬,৪৭৫ জন, আলীকদম ৬৩,৭৯৯ জন
রুমা ৩২,৫৩৩ জন, থানচি ২৯,৭৯০ জন, রোয়াংছড়ি ২৭,৭৩২ জন, মোট ৪,৮১,১০৬ জন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, লামার জনসংখ্যা বান্দরবান সদর উপজেলার চেয়েও প্রায় ২৮ হাজার ৫৮৫ জন বেশি। একই সঙ্গে জেলার সবচেয়ে কম জনসংখ্যার উপজেলা রোয়াংছড়ির তুলনায় লামায় মানুষের সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি।
লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে নতুন যুক্তি:
স্থানীয় নাগরিক ও উন্নয়নকর্মীদের মতে; জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা-বাণিজ্য এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় লামাকে পৃথক জেলা করার দাবি নতুন কোনো বিষয় নয়। একসময় লামা ছিল মহকুমা সদর। বর্তমানে লামা, আলীকদম ও আশপাশের সম্ভাব্য নতুন উপজেলা নিয়ে বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত হয়ে আসছে।

তাদের দাবি, জনসংখ্যার ভারসাম্য ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশও ত্বরান্বিত হতে পারে।
প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ:
সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে লামায় যে আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেও জনসংখ্যার এই পরিসংখ্যানমতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, ঐতিহাসিক যুক্তির পাশাপাশি কোনো এলাকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে জনসংখ্যা, আয়তন, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং জনগণের প্রয়োজন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, লামা জেলার দাবি কেবল একটি প্রশাসনিক মর্যাদা পাওয়ার দাবি নয়; এটি দীর্ঘদিনের বঞ্ছনা দূরীকরণ, প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আন্দোলন।
লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি ইতোমধ্যে লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, জনসংখ্যা ও ঐতিহাসিক প্রশাসনিক গুরুত্বের পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা বিবেচনা করে লামাকে জেলা ঘোষণার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এম রুহুল আমিন, সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মি 


















