
রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মুহম্মদ রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বড় অংকের ঘুষ দাবি এবং সচল কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে আজ নীলফামারী সৈয়দপুরে রাজপথে নেমে অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ ও অনশন পালন করছেন কারখানার শত শত শ্রমিক। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে রংপুরের সাথে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও শ্রমিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কমিশনার মুহম্মদ রাশেদুল আলম রংপুরে বদলি হয়ে এসেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করেন এবং তাদের নিকট থেকে বড় অংকের ঘুষ দাবি করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত কয়েক দিন আগে তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম সৈয়দপুরস্থ ‘আহমেদ প্লাইউড ফ্যাক্টরি’তে আকস্মিক অভিযান চালায়।
অভিযানের পর কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে শতকোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। দাবিকৃত ঘুষের অর্থ প্রদান না করলে ভ্যাট ফাঁকির মিথ্যা মামলা দিয়ে কারখানাটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে রাখলে, কাস্টমস টিম নীলফামারী জেলা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হয়।
এই হয়রানি ও হুমকির প্রতিবাদে আজ সকালে সৈয়দপুরের ঐ কারখানার কর্মহীন হয়ে পড়া শত শত শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। অভিযুক্ত কাস্টমস কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের জোরালো অঙ্গীকার রয়েছে, অথচ এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সচল কারখানা বন্ধ করে দিয়ে সেই লক্ষ্যকে নস্যাৎ করছেন। আকস্মিক এই পদক্ষেপে শত শত শ্রমিকের পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপনের মুখে পড়েছে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এই কর্মকর্তার শাস্তি এবং কারখানাটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কমিশনার মুহম্মদ রাশেদুল আলম ও তার সহযোগীদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্রমিকদের এই অনশন ও সড়ক অবরোধের ফলে সৈয়দপুর ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সমাজ অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী 
















