
সেনাবাহিনী-প্রশাসনের অভিযানের পরই পরিষ্কারে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা
মেহেদী হাসান রানা, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম বাজার ও পানবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে যৌথভাবে পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, ড্রেনেজ সমস্যা ও বাজারের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে অভিযানের পরপরই বাজারের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতির পরই এমন তৎপরতা দেখা গেলেও নিয়মিত সময়ে বাজারের পরিচ্ছন্নতা কেন বজায় থাকে না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম। এ সময় আলীকদম সেনাজোনের জোনাল স্টাফ অফিসার এবং পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।
অভিযানকালে বাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা, ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, সড়কে মালামাল রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।
সড়কে যত্রতত্র টমটম, অটোরিকশা ও চাঁদের গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অবৈধ পার্কিং সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ছাড়া যানবাহন পার্কিং না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের সময় আলীকদম বাজার ও পানবাজারের মাছ বাজার এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিশেষ করে পানবাজার-সংলগ্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় সেখানে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাজার কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার, মাছ ও অন্যান্য পণ্যের উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পুরো বাজার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা এলাকা ছাড়ার পরই বাজারের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ দৃশ্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযানের পর যদি বাজার পরিষ্কারে এতটা তৎপরতা দেখা যায়, তাহলে নিয়মিত সময়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ থাকে না কেন? শুধু অভিযানকেন্দ্রিক তৎপরতা নয়, বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিয়মিত বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
আলীকদম বাজার কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। বাজারের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসনে কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং ড্রেন পরিষ্কার রাখাসহ নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, বাজারের শৃঙ্খলা, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতেই যৌথভাবে এ পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজারের ফুটপাত দখল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হবে। জনস্বার্থে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনে কিছু ছোটখাটো অনিয়ম চিহ্নিত করে ব্যবসায়ীদের দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অনিয়ম নিরসনের পর সেনাজোন কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযানটি মূলত সচেতনতা সৃষ্টি ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়ায় কাউকে জরিমানা করা হয়নি।
স্থানীয় ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান বা প্রশাসনের উপস্থিতির সময় নয়, সারা বছরই বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। এ জন্য বাজার কমিটি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি প্রয়োজন।



















