
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর যেকোনো দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক গর্ভবতী পাহাড়ি মাকে অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার উদ্দেশ্যে উদ্ধার (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) করার সময় সেনাবাহিনীর চলন্ত পিকআপ ভ্যানেই একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল থেকেই বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম এলাকা সুংসুং পাড়ার বাসিন্দা লাল হুন-এর ৩০ বছর বয়সী গর্ভবতী স্ত্রী প্রসববেদনায় ছটফট করছিলেন এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হন। সন্ধ্যা আনুমানিক ১৮:৩০ ঘটিকায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে সুংসুং পাড়ার কারবারী (পাড়া প্রধান) সহায়তার জন্য নিকটস্থ সুংসুং পাড়া সেনাক্যাম্পে এসে উপস্থিত হন।
ঘটনার আকস্মিকতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্যাম্প কমান্ডার ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের (দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স) ক্যাপ্টেন ইনকিয়াতের নেতৃত্বে একটি সেনাদল (২টি পিকআপ ভ্যানসহ) অবিলম্বে ওই গর্ভবতী মাকে উদ্ধার করে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথিমধ্যে রাত আনুমানিক ২০:৩০ ঘটিকায় মুনলাই পাড়ার প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্বে পৌঁছালে গর্ভবতী মায়ের তীব্র প্রসববেদনা উঠে। এমন পরিস্থিতিতে সেনা সদস্যরা দ্রুত ও নিরাপদে রাস্তার পাশেই পিকআপ ভ্যানটিকে একটি নিরাপদ সাময়িক প্রসূতি কক্ষে রূপান্তর করেন। সঙ্গে থাকা প্রসূতির পরিবার ও স্থানীয় মিডওয়াইফ (ধাত্রী)-এর সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর পিকআপ ভ্যানেই এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে সেনাদল মা ও নবজাতক উভয়কে নিরাপদে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে রয়েছেন।
সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপে সুংসুং পাড়াসহ রুমা উপজেলার সকল পাড়ায় আনন্দের জোয়ার বইছে। নবজাতকের পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই তড়িৎ ও জীবনরক্ষাকারী ভূমিকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভূয়সী প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই মুহূর্তে সেনাসদস্যদের পাশে পেয়ে তারা অভিভূত।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর (কেএনএ) সহিংসতা ও অপতৎপরতা দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেভাবে কঠোর ও সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে, ঠিক একইভাবে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন ও মানবিক সেবায় সর্বদা নিজেদের নিবেদিত রেখেছে। নিজেদের আরাম-আয়েশকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই ত্যাগ ও সেবার যে মহান দৃষ্টান্ত সেনাবাহিনী দেখিয়ে আসছে, দুর্গম পাহাড়ে আজকের এই নজিরবিহীন ঘটনাটি স্থানীয় পাহাড়ী জনগণের আস্থার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও সুদূরপ্রসারী করবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণে ভবিষ্যতেও সর্বদা পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, (বান্দরবান)থানচি: 









