
নোয়াখালী-কুমিল্লা- ঢাকা ফোর লেইন আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্তত ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে সোনাপুর থেকে সোনাইমুড়ী পর্যন্ত ১০টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে ফুটওভার ব্রীজ গুলো নির্মাণ করায় নিরাপদ জনচলাচলে কোন কাজে আসছে না।অব্যবহৃত- জনচলাচলহীন ফুট ওভার ব্রীজ গুলো সন্ধ্যার পরে এক অনিরাপদ স্থানে পরিণত হয়।
একলাশপুর বাজারের পুরানো ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, মুল বাজার থেকে ফুটওভার ব্রীজ গুলো দুরে নির্মাণ করার কারণে এটি কেউ ব্যবহার করছে না এবং গুরুত্বহীন স্থান অপরিকল্পিভাবে ফুট ওভার ব্রীজ গুলো নির্মাণ করা হয়েছে বলে সে মনে করে।
সরজমিন ঘুরে দেখা দেখা যায়-মাইজদী দত্তের হাট, একলাশপুর বাজার, বেগমগঞ্জ জয়নুল আবদিন মেমোরিয়ার স্কুল, চৌরাস্তা, সোনাইমুড়ী আপানিয়া বাজার,ইসলামগঞ্জ বাজার, উপজেলা পরিষদের সামনে ও বাইপাস এলাকায় নির্মিত ফুট ওভার ব্রীজ গুলো কার্যত অচল। ধুলো বালি আর ঝোপ জঙ্গলে ভরে গেছে ব্রীজ গুলো। লোহার কাঠামোতে দেখা দিয়েছে মরিচা। আবার অনেকে ব্রীজ গুলোকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীক কাজেও ব্যবহার করতে দেখা যায়। সড়ক বিভাগের তথ্য মতে প্রতিটি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ করতে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে । অথচ যে উদ্দেশ্যে ফুট ওভার ব্রীজ গুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা জনগনের কোন কাজে আসছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ডিভাইডার টপকে কিংবা মাঝের ফাঁকা অংশ দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যহৃত পড়ে থাকা ফুট ওভার ব্রীজ গুলো এখন অনেকটাই বখাটে ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়া। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অব্যবহৃত ফুট ওভার ব্রীজে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়।এছাড়া ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সড়ক পার হতে অহরহ ঘটছে ছোট বড় র্দুর্ঘটনা।
অথচ চৌমুহনী বাজার, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ , সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপুর্ন স্থানে নেই ফুট ওভার ব্রীজ। সড়ক পার হতে অহরহ ঘটছে ছোট বড় প্রাণহানীর মতো দুর্ঘটনা। সচেতনদের দাবি জনগুরত্ব বিবেচনা করে নতুন ফুট ওভার ব্রীজ নির্মান অথবা গুরুত্বহীন স্থান থেকে ব্রীজ সরিয়ে নতুন স্থানে স্থাপন করা হোক।
বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা একজন বললেন-এখানে একটা হাসপাতাল,একটা স্কুল বিধায় একটা ফুট ওভার ব্রিজ দরকার। চৌমুহনী বাজার কমিটির কার্যকরী সভাপতি মোরশেদুল আমিন ফয়সল বললেন-চৌমুহনী বাজারের রেল ক্রসিংএলাকায় একটা ফুটওভার ব্রিজ নির্মান করা দরকার।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রক্যেশলী ফরিদউদ্দিন জানালেন- ফুটওভার ব্রিজ নির্মান সময়ে বরাদ্ধ না থাকায় ডিভাইডারে রেলিং দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনসচেতনতার মাধ্যমে ফুটওভার ব্রিজ গুলো ব্যবহার করা উচিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী 



















