Lama ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকের অপেক্ষায় দুই ঘণ্টা, মারা গেল দুই মাসের শিশু

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। সে কয়রা উপজেলার বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সন্তান।

শিশুটির মামা রাকিব হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিব হাসানের ভাষ্য, জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দেওয়ার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে তাকে দেখবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু সকাল নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেননি। পরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁর নাম তমালিকা বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি রোগী দেখছিলেন। তবে অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৯টি থাকলেও বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকসংকটের কারণে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। মো. আল আমিন বলেন, ‘শিশু কিংবা অন্য কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকেরা তাঁদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

কয়রা উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিতে হয়। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজীবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সরকারি সফরে থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

Bandarban Tribune

চিকিৎসকের অপেক্ষায় দুই ঘণ্টা, মারা গেল দুই মাসের শিশু

Update Time : ০৮:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। সে কয়রা উপজেলার বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সন্তান।

শিশুটির মামা রাকিব হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিব হাসানের ভাষ্য, জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দেওয়ার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে তাকে দেখবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু সকাল নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেননি। পরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁর নাম তমালিকা বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি রোগী দেখছিলেন। তবে অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৯টি থাকলেও বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকসংকটের কারণে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। মো. আল আমিন বলেন, ‘শিশু কিংবা অন্য কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসকেরা তাঁদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

কয়রা উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিতে হয়। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজীবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।