Lama ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: হুইপ নুরুদ্দিন অপু

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনায় প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীসংলগ্ন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাকেও ভালোবাসেন। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর এ এলাকা আওয়ামী লীগের ছিল। তবে গত নির্বাচনে শরীয়তপুরের জনগণ আমাদের তিনটি আসন উপহার দিয়েছেন। এ জন্য আমরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য কোনো স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করা কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয়দের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে দিতেও সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের এ ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুইপ অপু বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বরিশালগামী রেললাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছি।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত রেলপথটি নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশাল এবং পায়রা বন্দরের দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে সেতুর মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়কও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থানটির ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে হুইপ বলেন, চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মাঝামাঝি হওয়ায় এ স্থান যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সংসদ সদস্যদের সবার ভালোবাসার সিদ্ধান্তও এটি।

পরিদর্শনকালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় দৈনিক ‘কালবেলা’র চতুর্থ বার্ষিকী পালন

Bandarban Tribune

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: হুইপ নুরুদ্দিন অপু

Update Time : ০৭:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনায় প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীসংলগ্ন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাকেও ভালোবাসেন। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর এ এলাকা আওয়ামী লীগের ছিল। তবে গত নির্বাচনে শরীয়তপুরের জনগণ আমাদের তিনটি আসন উপহার দিয়েছেন। এ জন্য আমরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য কোনো স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করা কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয়দের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে দিতেও সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের এ ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুইপ অপু বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বরিশালগামী রেললাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছি।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত রেলপথটি নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশাল এবং পায়রা বন্দরের দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে সেতুর মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়কও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থানটির ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে হুইপ বলেন, চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মাঝামাঝি হওয়ায় এ স্থান যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সংসদ সদস্যদের সবার ভালোবাসার সিদ্ধান্তও এটি।

পরিদর্শনকালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।