Lama ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান ইউএনওর

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ। এ কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও সঠিক তথ্য সংগ্রহে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে এ আহ্বান জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বিপায়ন চাকমা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের পাইলটিং উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও ৫৭টি সিটি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৮৩১ জনকে কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা বাবদ বরাদ্দ। গত ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী খানা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করবেন। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে সব যোগ্য নারীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, তথ্য যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত স্কোরের ভিত্তিতে ভাতার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তবে সব নারী পরিবার প্রধানের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি থাকবে এবং এটি টাকাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পিওএস ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারহানা নাসরিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পানছড়ির সব নাগরিককে তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

প্রেস কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম এ বাসারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আনোয়ারায় সরকারি অনুমোদিত বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট AIST-এর যাত্রা

Bandarban Tribune

পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান ইউএনওর

Update Time : ০৭:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ। এ কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও সঠিক তথ্য সংগ্রহে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে এ আহ্বান জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বিপায়ন চাকমা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের পাইলটিং উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও ৫৭টি সিটি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৮৩১ জনকে কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা বাবদ বরাদ্দ। গত ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী খানা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করবেন। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে সব যোগ্য নারীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, তথ্য যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত স্কোরের ভিত্তিতে ভাতার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তবে সব নারী পরিবার প্রধানের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি থাকবে এবং এটি টাকাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পিওএস ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারহানা নাসরিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পানছড়ির সব নাগরিককে তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

প্রেস কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম এ বাসারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।