Lama ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও আইনি জটিলতা: 

আসন্ন মৌসুমে বান্দরবানে ইট প্রস্তুতকারী সংগঠনের একাংশ ইটভাটা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত 

আসন্ন ইট পোড়ানোর মৌসুমে বান্দরবানের বেশ কিছু ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকপক্ষের একটি অংশ। বিভিন্ন প্রশাসনিক ঝক্কিঝামেলা, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার অপরাহ্নে বান্দরবান জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক মোক্তার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​সূত্রমতে, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে পরবর্তী বর্ষার পূর্ব পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে ইটভাটার মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে এ বছর নতুন মৌসুম শুরুর মুখেই অনেক মালিক নিজেদের ভাটা না চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মৌসুম শুরুর ঠিক আগ মূহুর্তে ইটভাটা না করার ​সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে মালিকদের একাংশের সাথে কথা বলে জানাযায়,

​প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পাহাড় রক্ষায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি জোরদার করা হয়েছে। আইনি আইডলজিক্যাল নিয়মকানুন পুরোপুরি পালন করা সাধারণ ইটের ভাটায় কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

​লাইসেন্স ও ছাড়পত্র না পাওয়ার জটিলতা, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি হওয়ার কারণে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে ভাটা মালিকদের।

এছাড়া ​উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও লোকসানের শঙ্কা অনেক বেশি এবং হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হয় বলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পর লোকসানের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

​প্রচলিত ইটভাটার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের ওপর সরকারের তাগিদ বৃদ্ধির ফলেও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

​মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বান্দরবান ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক মোক্তার আহমেদ জানান, “বাৎসরিক বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে যদি প্রশাসনিক অভিযান ও আইনি টানাপোড়েনের মুখোমুখি হতে হয়, তবে ব্যবসায় লাভের চেয়ে লোকসান ও মানসিক চাপ বেশি থাকে। তাই আপাতত আসন্ন মৌসুমে আমরা ইট প্রস্তুত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে অর্থাত ইটভাটা না হলে​পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রভাব কি পড়তে পারে; সে বিষয়ে এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ জানান, ​বান্দরবানের স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এর একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভাটার একাংশ বন্ধ থাকলে বাজারে ইটের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে, যা প্রকারান্তরে ইটের দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

​তবে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, পাহাড় ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সদর্থক ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে আইন মেনে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট বা বিকল্প নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আনোয়ারায় সরকারি অনুমোদিত বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট AIST-এর যাত্রা

Bandarban Tribune

প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও আইনি জটিলতা: 

আসন্ন মৌসুমে বান্দরবানে ইট প্রস্তুতকারী সংগঠনের একাংশ ইটভাটা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত 

Update Time : ০৫:০০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন ইট পোড়ানোর মৌসুমে বান্দরবানের বেশ কিছু ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকপক্ষের একটি অংশ। বিভিন্ন প্রশাসনিক ঝক্কিঝামেলা, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার অপরাহ্নে বান্দরবান জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক মোক্তার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​সূত্রমতে, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে পরবর্তী বর্ষার পূর্ব পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে ইটভাটার মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে এ বছর নতুন মৌসুম শুরুর মুখেই অনেক মালিক নিজেদের ভাটা না চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মৌসুম শুরুর ঠিক আগ মূহুর্তে ইটভাটা না করার ​সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে মালিকদের একাংশের সাথে কথা বলে জানাযায়,

​প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পাহাড় রক্ষায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি জোরদার করা হয়েছে। আইনি আইডলজিক্যাল নিয়মকানুন পুরোপুরি পালন করা সাধারণ ইটের ভাটায় কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

​লাইসেন্স ও ছাড়পত্র না পাওয়ার জটিলতা, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি হওয়ার কারণে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে ভাটা মালিকদের।

এছাড়া ​উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও লোকসানের শঙ্কা অনেক বেশি এবং হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হয় বলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পর লোকসানের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

​প্রচলিত ইটভাটার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের ওপর সরকারের তাগিদ বৃদ্ধির ফলেও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

​মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বান্দরবান ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক মোক্তার আহমেদ জানান, “বাৎসরিক বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে যদি প্রশাসনিক অভিযান ও আইনি টানাপোড়েনের মুখোমুখি হতে হয়, তবে ব্যবসায় লাভের চেয়ে লোকসান ও মানসিক চাপ বেশি থাকে। তাই আপাতত আসন্ন মৌসুমে আমরা ইট প্রস্তুত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে অর্থাত ইটভাটা না হলে​পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রভাব কি পড়তে পারে; সে বিষয়ে এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ জানান, ​বান্দরবানের স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এর একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভাটার একাংশ বন্ধ থাকলে বাজারে ইটের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে, যা প্রকারান্তরে ইটের দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

​তবে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, পাহাড় ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সদর্থক ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে আইন মেনে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট বা বিকল্প নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।