
বান্দরবানের লামা উপজেলার চাম্বি মৌজায় ১৯৮০-৮১ সালে সরকারের দেয়া ৭১৭ নং হোল্ডিংয়ের ৪ একর পুনর্বাসন বন্দোবস্তির জমি খুঁজে পাচ্ছেন না প্রকৃত ওয়ারিশরা।
জমি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রদান ও মৌজা সীমানা চিহ্নিতকরণে ভূমি প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল বানিয়ে বসত ভিটা ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ করেছেন মরহুম রবি উল্যার ওয়ারিশরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, সরকার ১৯৮০-৮১ সালের ২৫৭৬ নং বন্দোবস্তি মোকাদ্দমা মূলে পুনর্বাসনের আওতায় মৃত রবি উল্যাকে চাম্বি মৌজায় ৭১৭ হোল্ডিংয়ের হোল্ডিংয়ের আন্দর ৪ একর জমি বন্দোবস্তি প্রদান করেন। যার চৌহদ্দি: উত্তরে- পাহাড়, দক্ষিণে- পাহাড়, পূর্বে- পাহাড় টেকে বেঁকে, পচ্শিমে- পাহাড় টেকে বেঁকে।
রবি উল্যার মৃত্যুর পর তার সন্তান ও ওয়ারিশরা নিজ পৈত্রিক ভিটা ও উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত ২০০৯ সালে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে রবি উল্যার বসত ভিটার গাছ ক্রয়ের কথা বলে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজ প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে সেই কাগজপত্রের দোহাই দিয়ে তিনি ৪ একর জমি অবৈধভাবে নিজের দখলে নেন এবং রবি উল্যার পরিবারকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।
মৃত রবি উল্যার ওয়ারিশদের দাবি, তারা শুধু বসত ভিটার গাছ বিক্রির বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। কোনো অবস্থাতেই তারা পৈত্রিক জমি বিক্রি করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে লামা বাজারে একজন রাইটারের অফিসে নিয়ে গিয়ে গাছ বিক্রির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেন মোয়াজ্জেম হোসেন।
সেই চুক্তিকে জমি বিক্রিবায়নানামা কাগজ বানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে তাদের জমি বসত ভিটাসহ দখল করে আছেন বলেঅভিযোগ করে রবিউল্যার বড় ছেলে নরুর স্ত্রী রাজিয়া বেগম ।
এই বিষয়ে সঠিক অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের লোকেরা একাধিকবার স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এমনকি উপজেলা ভূমি প্রশাসনও এই বন্দোবস্তিকৃত চাম্বি মৌজার ৭১৭ নং আর হোল্ডিংয়ের ৪ একর ২য় শ্রেণির জমির সঠিক সীমানা ও তথ্য চিহ্নিত করতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ।
সরেজমিন অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন মুরুব্বির সাথে আলাপকালে তারাও মৃত রবিউল্যার ওয়ারিশদের উপর মোয়াজ্জেম হোসেন গং কর্তৃক নানান নির্যাতন করে জমিটি জোর করে দখলে নেয়ার কথা জানান।
৮ অক্টোবর সরেজমিন অনুসন্ধানকালে প্রবীন বাসিন্দা মোঃ আরশাদ আলী-পিতা মৃত মোঃ কালা চাঁদ গাজী জানান, ‘বর্তমানে মোয়াজ্জেম হোসেনের দখলীয় এই জায়গাতে রবি উল্যার বসত বাড়ি ছিলো। চারদিকে অনেকগুলো আম কাঠাল গাছ ছিলো।
রবিউল্যার কাছাকাছি উত্তর দিকে আনুমানিক ৫/৬ শ্ মিটারের মধ্যে ডলুছড়ি মৌজায় ৮৫৩ নং আর হোঃ এর আমার জায়গা। এখনো সেই একই জায়গায় আমি পরিবার সন্তানাদি নিয়ে বসবাসরত আছি। কিন্তু চাম্বি মৌজার ঠিক এখানে রবিউল্যার বসত ঘর ছিলো। এখন সেই ঘরবাড়ি রবিউল্যা এবং তার কোনো ওয়ারিশও নেই।’
আবুতাহের সর্দার বলেন ভিন্ন কথা। সে বলেন, ‘রবিউল্যার ছেলে হাবিব ও স্ত্রী কন্যা বিগত জরুরী অবস্থার সময় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ গ্রুপ লিডার আজিজ এর নিকট ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে চলে যায়। পরে আজিজ লিডার মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বিক্রি করে দখল বুজিয়ে দেয়। তবে নরুর অংশ বিক্রি করেন নাই। নানান নির্যাতন সইতে না পেরে নুরু স্বপরিবারে ২০১০ সালের আগে সেখান থেকে চলে যায়। এর ৫ বছর পর হাবিবকে মারধর করে গাছ বিক্রির চুক্তির নামে ২৫০০০ টাকা দিয়ে আজিজ লিডারের সহযোগিতায় জায়গাটি দখল করে নেয় মোয়াজ্জেম হোসেন এর লোকজন।’
এসব বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই। সরেজমিন অনুসন্ধ্যানকালে তার কর্মচারীদের কাছে কিছু কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, কিন্তু তারা কোনো কথা বলেন নি। মনসুর নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেন রবিউল্যার ওয়ারিশদের থেকে জায়গাটি কিনে নিয়েছেন।
এই অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পৈত্রিক ভিটা ও সরকারি বন্দোবস্তিকৃত চাম্বি মৌজার ৭১৭ নং হোল্ডিংয়ের জমি ফিরে পেতে এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী মোয়াজ্জেম হোসেনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয় রবিউল্যার পুত্রবধু রাজিয়া বেগম স্বামী ও শশুরের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য লামা সিনিয়র জুড়িশিয়াল কোর্টে সিআর-৫৪/২০২৫ মামলা করেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















