Lama ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে

কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

‘জ্ঞানে-যুক্তিতে স্বপ্নে-সাহসে আগামী’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ‘কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬’। উৎসবের অংশ হিসেবে সোমববার (৫ অক্টোবর) কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সহযোগিতায় এবং কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কর্মশালায় কৌশলগত অংশীদার ছিল বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ডিবেটিং ক্লাব। তারা কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক সহায়তা দিয়েছে।

কর্মশালায় উপজেলার ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থী এবং প্রতি বিদ্যালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি শিক্ষক অংশ নেন। সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৮০ জন।

প্রশিক্ষণে বিতর্কের নিয়মকানুন, বারোয়ারি বিতর্ক, সংসদীয় বিতর্ক ও উপস্থাপনা শৈলীর ওপর হাতে-কলমে শেখানো হয়। প্রশিক্ষক ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিতার্কিক ইয়াসির সিলমী এবং ইউএসটিসি এফসেট ডিবেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সভাপতি কাজী আরফাত।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উৎসবের আহ্বায়ক মো. রিদুয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন, সমাপনী ও সনদ বিতরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।

আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।” ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানুষকে মুক্তচিন্তা, সততা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। তরুণ প্রজন্মকে গুজব ও অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে রেখে যুক্তিনির্ভর মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলার প্রতিটি স্কুলে বিতর্ক চর্চা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের তরুণরা চট্টগ্রামের বিতর্ক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে এবং সকলের অংশগ্রহণে পুরো টুর্নামেন্ট আরও সাফল্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধশালী হবে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি জেলা পরিষদ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব, উপস্থিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী ২৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বিতর্কচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কৌশলগত অংশীদার বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা একটি প্রদর্শনী বিতর্ক (শো-ডিবেট) পরিবেশন করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেওয়া হয়। দুই প্রশিক্ষক ইয়াসির সিলমী ও কাজী আরফাতকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়কারী ও বিতার্কিক আকরাম হোসেন রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমান, কর্ণফুলী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন সবুজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সদস্য ও ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিবেদক মুজিবুল হক।

এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এই কর্মশালার মধ্য দিয়েই ‘কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো। উৎসবের আয়োজন চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

Bandarban Tribune

আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে

কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

Update Time : ০৮:৪০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

‘জ্ঞানে-যুক্তিতে স্বপ্নে-সাহসে আগামী’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ‘কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬’। উৎসবের অংশ হিসেবে সোমববার (৫ অক্টোবর) কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সহযোগিতায় এবং কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কর্মশালায় কৌশলগত অংশীদার ছিল বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ডিবেটিং ক্লাব। তারা কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক সহায়তা দিয়েছে।

কর্মশালায় উপজেলার ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থী এবং প্রতি বিদ্যালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি শিক্ষক অংশ নেন। সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৮০ জন।

প্রশিক্ষণে বিতর্কের নিয়মকানুন, বারোয়ারি বিতর্ক, সংসদীয় বিতর্ক ও উপস্থাপনা শৈলীর ওপর হাতে-কলমে শেখানো হয়। প্রশিক্ষক ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিতার্কিক ইয়াসির সিলমী এবং ইউএসটিসি এফসেট ডিবেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সভাপতি কাজী আরফাত।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উৎসবের আহ্বায়ক মো. রিদুয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন, সমাপনী ও সনদ বিতরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।

আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।” ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানুষকে মুক্তচিন্তা, সততা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। তরুণ প্রজন্মকে গুজব ও অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে রেখে যুক্তিনির্ভর মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলার প্রতিটি স্কুলে বিতর্ক চর্চা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের তরুণরা চট্টগ্রামের বিতর্ক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে এবং সকলের অংশগ্রহণে পুরো টুর্নামেন্ট আরও সাফল্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধশালী হবে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি জেলা পরিষদ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব, উপস্থিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী ২৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বিতর্কচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কৌশলগত অংশীদার বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা একটি প্রদর্শনী বিতর্ক (শো-ডিবেট) পরিবেশন করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেওয়া হয়। দুই প্রশিক্ষক ইয়াসির সিলমী ও কাজী আরফাতকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়কারী ও বিতার্কিক আকরাম হোসেন রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমান, কর্ণফুলী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন সবুজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সদস্য ও ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিবেদক মুজিবুল হক।

এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এই কর্মশালার মধ্য দিয়েই ‘কর্ণফুলী বিতর্ক উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো। উৎসবের আয়োজন চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।