Lama ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছর ধরে সংস্কারহীন চরফ্যাশনের চরমানিকা সড়ক; সর্বসাধারণের দুর্ভোগ, অসুস্থ রোগীর ভরসা খাট

চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কটি দীর্ঘ এক দশক ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে
বিশাল বিশাল ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ, যা চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে দক্ষিণে বেড়িবাঁধ হয়ে চরফারুকী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাকে
চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তুলেছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন এই অঞ্চলের কয়েকশ সাধারণ মানুষ।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাদা-পানি ও খানাখন্দ মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় ভাঙা রাস্তায় পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজের পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি জোয়ারের সময় সড়কের নিচু অংশগুলো তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম ঝুঁকি ও মানসিক অশান্তি নিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়ের কারণে এলাকাটি অবরুদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রæত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীকে খাটে শুইয়ে কাঁধে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সদরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।

এছাড়া সড়কটির কারণে এলাকার কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় এবং এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সড়কের ওপরই এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষ সড়কটি দ্রুত পাকা ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের জন্য আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো
হচ্ছে। সরকারি পরবর্তী বরাদ্দ এলেই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় চুড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী জনপদ এখন শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, বরং দ্রুত সড়কটির বাস্তব সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন দেখতে চায়, যাতে তাদের দৈনন্দিন জীবনের এই দীর্ঘস্থাযী নরকযন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি মেলে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের অভিযান, ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

Bandarban Tribune

১০ বছর ধরে সংস্কারহীন চরফ্যাশনের চরমানিকা সড়ক; সর্বসাধারণের দুর্ভোগ, অসুস্থ রোগীর ভরসা খাট

Update Time : ০৪:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কটি দীর্ঘ এক দশক ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে
বিশাল বিশাল ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ, যা চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে দক্ষিণে বেড়িবাঁধ হয়ে চরফারুকী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাকে
চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তুলেছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন এই অঞ্চলের কয়েকশ সাধারণ মানুষ।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাদা-পানি ও খানাখন্দ মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় ভাঙা রাস্তায় পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজের পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি জোয়ারের সময় সড়কের নিচু অংশগুলো তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম ঝুঁকি ও মানসিক অশান্তি নিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়ের কারণে এলাকাটি অবরুদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রæত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীকে খাটে শুইয়ে কাঁধে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সদরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।

এছাড়া সড়কটির কারণে এলাকার কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় এবং এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সড়কের ওপরই এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষ সড়কটি দ্রুত পাকা ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের জন্য আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো
হচ্ছে। সরকারি পরবর্তী বরাদ্দ এলেই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় চুড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী জনপদ এখন শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, বরং দ্রুত সড়কটির বাস্তব সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন দেখতে চায়, যাতে তাদের দৈনন্দিন জীবনের এই দীর্ঘস্থাযী নরকযন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি মেলে।