Lama ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে অবৈধ অভিযোগে ৩টি ইটভাটা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন; জরিমানা আদায় ৬ লাখ

সুবর্ণচরে কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন ও কৃষিজমি থেকে ইট তৈরির জন্য মাটি কাটা,অনুমোদন বিহীন ইভাটায় ইট প্রস্ততকরার অপরাধে তিনটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। একই সাথে ২ লাখ টাকা করে তিন মালিককে ৬ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মালিক পক্ষের অভিযোগ ৩ থেকে ৪ বছর বার্র্ষিক ট্রেড লাইসেন্স ফি,ভ্যাটসহ ফায়ার সার্ভিসের নিয়মত ফি প্রদান করাসহ প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্র দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা আছে।অথচ কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ না করে তাদের ইটভাটগুরো ভেঙ্গেকোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামে এ তিনটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পপুলার ব্রিকস ফিল্ডের মালিক মো.আব্দুল আজিজকে ২ লাখ টাকা, তাহেরা ব্রিকস এর মালিক শাহাদাত হোসেনকে ২ লাখ টাকা ও জহুরা ব্রিকস এর মালিক জামাল উদ্দিনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।

অভিযানকালে কৃষিজমি থেকে ইটের কাঁচামাল প্রস্ততের জন্য মাটি কাটার পাশাপাশি কৃষিজমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করায় ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে এদেরকে অর্থদন্ড করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে স্থাপিত ব্রিকস ফিল্ডটি গুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং বলেন, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কৃষিজমি যাতে ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহ বা ভাটা স্থাপনের কাজে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক রায়হান মোর্শেদ, চরজব্বর থানা পুলিশ, ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাহেরা ব্রিকস এর মালিক শাহাদাত হোসেন জানালেন,গত ২০২২ সাল থেকে তিনি ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ইট ভাটা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ বছরে ৪০ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি, কাস্টম অফিস বছরে ৫ লাখ টাকা ভ্যাট, ফায়ার সার্ভিসের ৮ হাজার টাকা ফি নিয়মিত আদায় করছেন। কৃষি,পরিবেশ ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সম্মতিসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা আছে। যে প্রসঙ্গে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কিন্ত কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মোবাইল কোর্ট আমি এবং আমদের ইট ভাটা গুলো ভেঙ্গে দিয়েছে।তিনি বলেন“ আমার ব্যাংক ঋন,অগ্রিম বিক্রয়, বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেয়া সর্বসাকুল্যে এক কোটি টাকার বেশী অর্থের ক্ষতি হয়েছে।এ ব্যাপক ক্ষতিতে আমি নিস্বঃস হয়ে গেলাম”।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক(সিনিয়র কেমিষ্ট) রায়হান মোর্শেদ বলেন, ইট ভাটার মালিকরা বাংলা ভাটায় ইট পোড়ায় ;যা অবৈধ।তাদের কোন লাইসেন্স নাই। কেহ ট্রেড লাইসেন্স দেখালেও তা যথেষ্ট ছিল না। পরিবেশঅধিদপ্তরের কোন ছাড় পত্রও ছিল না। জেলা ইট প্রস্তকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ইসমাইল জানালেন,এদের ইট পোড়ানের কোন অনুমোদন লাইসেন্স ছিল না।তাছাড়া এরা বাংলা ভাটায় ইট পোড়ায় যা অবৈধ।

জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় সূত্রে জানা গেছে-যে সব ইটভাটাগুলি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছ্ ্ এেদেরকে বিভিন্ন সময়ে সভা সেমিনারে ডেকে আইন সম্মত ভাটা তৈরীর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Bandarban Tribune

নোয়াখালীতে অবৈধ অভিযোগে ৩টি ইটভাটা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন; জরিমানা আদায় ৬ লাখ

Update Time : ০৩:৩১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সুবর্ণচরে কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন ও কৃষিজমি থেকে ইট তৈরির জন্য মাটি কাটা,অনুমোদন বিহীন ইভাটায় ইট প্রস্ততকরার অপরাধে তিনটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। একই সাথে ২ লাখ টাকা করে তিন মালিককে ৬ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মালিক পক্ষের অভিযোগ ৩ থেকে ৪ বছর বার্র্ষিক ট্রেড লাইসেন্স ফি,ভ্যাটসহ ফায়ার সার্ভিসের নিয়মত ফি প্রদান করাসহ প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্র দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা আছে।অথচ কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ না করে তাদের ইটভাটগুরো ভেঙ্গেকোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামে এ তিনটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পপুলার ব্রিকস ফিল্ডের মালিক মো.আব্দুল আজিজকে ২ লাখ টাকা, তাহেরা ব্রিকস এর মালিক শাহাদাত হোসেনকে ২ লাখ টাকা ও জহুরা ব্রিকস এর মালিক জামাল উদ্দিনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।

অভিযানকালে কৃষিজমি থেকে ইটের কাঁচামাল প্রস্ততের জন্য মাটি কাটার পাশাপাশি কৃষিজমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করায় ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে এদেরকে অর্থদন্ড করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে স্থাপিত ব্রিকস ফিল্ডটি গুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং বলেন, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কৃষিজমি যাতে ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহ বা ভাটা স্থাপনের কাজে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক রায়হান মোর্শেদ, চরজব্বর থানা পুলিশ, ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাহেরা ব্রিকস এর মালিক শাহাদাত হোসেন জানালেন,গত ২০২২ সাল থেকে তিনি ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ইট ভাটা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ বছরে ৪০ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি, কাস্টম অফিস বছরে ৫ লাখ টাকা ভ্যাট, ফায়ার সার্ভিসের ৮ হাজার টাকা ফি নিয়মিত আদায় করছেন। কৃষি,পরিবেশ ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সম্মতিসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা আছে। যে প্রসঙ্গে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কিন্ত কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মোবাইল কোর্ট আমি এবং আমদের ইট ভাটা গুলো ভেঙ্গে দিয়েছে।তিনি বলেন“ আমার ব্যাংক ঋন,অগ্রিম বিক্রয়, বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেয়া সর্বসাকুল্যে এক কোটি টাকার বেশী অর্থের ক্ষতি হয়েছে।এ ব্যাপক ক্ষতিতে আমি নিস্বঃস হয়ে গেলাম”।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক(সিনিয়র কেমিষ্ট) রায়হান মোর্শেদ বলেন, ইট ভাটার মালিকরা বাংলা ভাটায় ইট পোড়ায় ;যা অবৈধ।তাদের কোন লাইসেন্স নাই। কেহ ট্রেড লাইসেন্স দেখালেও তা যথেষ্ট ছিল না। পরিবেশঅধিদপ্তরের কোন ছাড় পত্রও ছিল না। জেলা ইট প্রস্তকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ইসমাইল জানালেন,এদের ইট পোড়ানের কোন অনুমোদন লাইসেন্স ছিল না।তাছাড়া এরা বাংলা ভাটায় ইট পোড়ায় যা অবৈধ।

জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় সূত্রে জানা গেছে-যে সব ইটভাটাগুলি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছ্ ্ এেদেরকে বিভিন্ন সময়ে সভা সেমিনারে ডেকে আইন সম্মত ভাটা তৈরীর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।