Lama ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় লামা বন বিভাগে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

লামা বনবিভাগের তৈন রেঞ্জ ফরেস্ট ট্রেনিং সেন্টারে ‘হাতি মানুষে দ্বন্দ্ব নিরসনে’ তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্তি। হাতি সংরক্ষন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নেন, তরুন প্রজম্মের শিক্ষার্থী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, বিজবি সংবাদ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদ্বয়, ইআরটি সদস্য।

হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয় শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ বুধবার ৪ নভেম্বর বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বুনো হাতির আক্রমণ থেকে জানমাল রক্ষার পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

২রা নভেম্বর প্রশিক্ষন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন সংরক্ষক কেন্দ্রীয অঞ্চল ও প্রকল্প পরিচালক হাতি সংরক্ষন প্রকল্প এ.এস.এম জহির উদ্দিন আকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তিন দিনব্যাপী কারিগরি ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার রূপরেখা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় আলোচনা করেন, লামা বন বিভাগের এসিএফ মাসুম আলম, প্রশিক্ষনার্থী  লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,  বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষনার্থীরা।

কর্মশালায় ১ম দিনে হাতির আচরণ বোঝা ও দ্বন্দ্বের মূল কারণ চিহ্নিতকরণ আচরণ ও বাস্তুসংস্থান জানা। হাতির মেজাজ, চলাচলের পথ (করিডোর) এবং তাদের দলবদ্ধ জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করা হয়।

সংঘাতের কারণ বিশ্লেষণ; বন উজাড়, বনভূমি দখল, হাতির প্রাকৃতিক খাদ্যাভাব এবং চলাচলের চেনা পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া আইনি সচেতনতা সম্পর্কে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ সম্পর্কে অংশ গ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

২য় দিনে প্রতিরোধমূলক কৌশল ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে হাতি তাড়ানোর নিরাপদ উপায়, বুনো হাতি লোকালয়ে বা ফসলি জমিতে এলে উগ্র পদ্ধতি ব্যবহার না করে সার্চলাইট বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি টর্চলাইট, বাঁশি (হুইসেল) ও দূর থেকে আওয়াজ করার কৌশল শেখানোর উপর প্রশিক্ষণ দেন; প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি: হাতির অপছন্দনীয় ফসল (যেমন: মরিচ চাষ বা চিলি ফেন্স) এবং মৌমাছি চাষের (Beehive Fence) মাধ্যমে ক্ষেতের চারপাশ সুরক্ষিত করার জৈবিক কৌশল ও মরিচের ধোঁয়া তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়।

আদি বাসস্থান পুনরুদ্ধার; বনের ভেতর হাতির উপযোগী খাবার যেমন—বাঁশঝাড় ও কলার বাগান তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ।

৩য় দিনে মাঠ পর্যায়ের দল গঠন ও সাড়াদান;

এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT) গঠন: বুনো হাতির আক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক সাড়াদান দল বা ‘হাতি সুরক্ষা দল’ গঠন করা এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন।

লজিস্টিকস বিতরণ: প্রশিক্ষিত সদস্যদের মাঝে বন বিভাগ বা সহযোগী সংস্থার পক্ষ থেকে টর্চলাইট, হ্যান্ডমাইক, ভেস্ট এবং হুইসেল বিতরণ। ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া: হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ও সহজে সরকারি বিধি মোতাবেক আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়, তার আবেদন প্রক্রিয়া ও করণীয় আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন; বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগ এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মুল্যায়ন ও মতামত গ্রহন করেন। প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহনকারীরা তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা সমাজ জীবনে কাজে লাগিয়ে হাতি, জীবন প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষায়  অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। এসিএফ মাসুদ আলম এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন, লামা ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মোঃ আবদুল্লাহ, বিজিবি সদস্য শান্ত, কলেজ ছাত্র এমদাদুল হক মিলন, লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মাতামুহুরি রেঞ্জ অফিসার আ.ছ.ম রিদুয়ানুল হক, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন

 রেঞ্জ অফিসার মোঃ আরিফুল হক।

শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Bandarban Tribune

হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় লামা বন বিভাগে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

Update Time : ০৩:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

লামা বনবিভাগের তৈন রেঞ্জ ফরেস্ট ট্রেনিং সেন্টারে ‘হাতি মানুষে দ্বন্দ্ব নিরসনে’ তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্তি। হাতি সংরক্ষন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নেন, তরুন প্রজম্মের শিক্ষার্থী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, বিজবি সংবাদ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদ্বয়, ইআরটি সদস্য।

হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয় শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ বুধবার ৪ নভেম্বর বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বুনো হাতির আক্রমণ থেকে জানমাল রক্ষার পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

২রা নভেম্বর প্রশিক্ষন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন সংরক্ষক কেন্দ্রীয অঞ্চল ও প্রকল্প পরিচালক হাতি সংরক্ষন প্রকল্প এ.এস.এম জহির উদ্দিন আকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তিন দিনব্যাপী কারিগরি ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার রূপরেখা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় আলোচনা করেন, লামা বন বিভাগের এসিএফ মাসুম আলম, প্রশিক্ষনার্থী  লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান,  বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষনার্থীরা।

কর্মশালায় ১ম দিনে হাতির আচরণ বোঝা ও দ্বন্দ্বের মূল কারণ চিহ্নিতকরণ আচরণ ও বাস্তুসংস্থান জানা। হাতির মেজাজ, চলাচলের পথ (করিডোর) এবং তাদের দলবদ্ধ জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করা হয়।

সংঘাতের কারণ বিশ্লেষণ; বন উজাড়, বনভূমি দখল, হাতির প্রাকৃতিক খাদ্যাভাব এবং চলাচলের চেনা পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া আইনি সচেতনতা সম্পর্কে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ সম্পর্কে অংশ গ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

২য় দিনে প্রতিরোধমূলক কৌশল ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে হাতি তাড়ানোর নিরাপদ উপায়, বুনো হাতি লোকালয়ে বা ফসলি জমিতে এলে উগ্র পদ্ধতি ব্যবহার না করে সার্চলাইট বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি টর্চলাইট, বাঁশি (হুইসেল) ও দূর থেকে আওয়াজ করার কৌশল শেখানোর উপর প্রশিক্ষণ দেন; প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি: হাতির অপছন্দনীয় ফসল (যেমন: মরিচ চাষ বা চিলি ফেন্স) এবং মৌমাছি চাষের (Beehive Fence) মাধ্যমে ক্ষেতের চারপাশ সুরক্ষিত করার জৈবিক কৌশল ও মরিচের ধোঁয়া তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়।

আদি বাসস্থান পুনরুদ্ধার; বনের ভেতর হাতির উপযোগী খাবার যেমন—বাঁশঝাড় ও কলার বাগান তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ।

৩য় দিনে মাঠ পর্যায়ের দল গঠন ও সাড়াদান;

এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT) গঠন: বুনো হাতির আক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক সাড়াদান দল বা ‘হাতি সুরক্ষা দল’ গঠন করা এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন।

লজিস্টিকস বিতরণ: প্রশিক্ষিত সদস্যদের মাঝে বন বিভাগ বা সহযোগী সংস্থার পক্ষ থেকে টর্চলাইট, হ্যান্ডমাইক, ভেস্ট এবং হুইসেল বিতরণ। ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া: হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ও সহজে সরকারি বিধি মোতাবেক আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়, তার আবেদন প্রক্রিয়া ও করণীয় আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন; বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগ এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মুল্যায়ন ও মতামত গ্রহন করেন। প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহনকারীরা তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা সমাজ জীবনে কাজে লাগিয়ে হাতি, জীবন প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষায়  অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। এসিএফ মাসুদ আলম এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন, লামা ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মোঃ আবদুল্লাহ, বিজিবি সদস্য শান্ত, কলেজ ছাত্র এমদাদুল হক মিলন, লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মাতামুহুরি রেঞ্জ অফিসার আ.ছ.ম রিদুয়ানুল হক, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন

 রেঞ্জ অফিসার মোঃ আরিফুল হক।

শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।