
শৈশবেই পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক নতুন প্রজন্ম—এ প্রত্যাশায় খাগড়াছড়ির পানছড়িতে শিশুদের কুরআন শরিফ সবক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘সহজ কুরআন শিক্ষা’ কেন্দ্রের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৭টায় উপজেলার জিয়ানগর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কায়দা ও আমপারা শিক্ষা সম্পন্ন করা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কুরআন শরিফ তুলে দেওয়া হয়। শিশুদের কণ্ঠে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং দ্বীনি শিক্ষার আবহে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর। এ সময় শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মসজিদের মুয়াজ্জিন ও মক্তবের শিক্ষক মাওলানা শফিকুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মক্তবটি স্থানীয় শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে মসজিদ কমিটির সদস্য, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পানছড়ি শাখার কেয়ারটেকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শিশুদের নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশুরা নৈতিক আদর্শে বেড়ে উঠতে পারে এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।
তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে শিশুদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নতুন প্রজন্মের মধ্যে কুরআনের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ সময় মক্তবের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে শিশুদের পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অর্জন, দ্বীনের পথে অবিচল থাকা এবং ইসলামের আদর্শে জীবন গড়ার তৌফিক কামনা করা হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মক্তবের এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে আরও বেশি শিশু কুরআন শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি : 



















