
আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, সম্প্রতি অনলাইনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নারী ক্রিকেটে ব্যাপক যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।
উক্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার এবং সংশ্লিষ্ট ১০৪ জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া এর আগেও জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলমও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
এর আগেও আমরা বিভিন্ন সময়ে নারী ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠতে দেখেছি। কিন্তু বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্ত কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি।
তাই, সম্প্রতি প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী ক্রিকেটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়, সংকোচ কিংবা চাপ ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরতে পারেন, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
ক্রিকেটসহ যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের মতো ঘটনা শুধু কর্মপরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং নারীদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স মনে করে, একজন নারী ক্রিকেটারের মূল্যায়ন হতে হবে অবশ্যই তার যোগ্যতা, পরিশ্রম ও মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। কোনো ধরনের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড়ের ক্রীড়াজীবন নিয়ন্ত্রিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নারী ক্রিকেটারের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স বিশ্বাস করে, নারী ক্রিকেটের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল মাঠের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক, বৈষম্যহীন ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই, ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স কেবল নারী ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, দেশের সব ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ও কর্মোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















