Lama ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুই অভিযান, উদ্ধার ৯ আগ্নেয়াস্ত্র

সুন্দরবনে জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে কোস্ট গার্ড। অভিযানের মুখে পাঁচ জেলেকে ফেলে বনের গহিনে পালিয়ে গেছে দুর্ধর্ষ সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকে চারটি ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন দাকোপের সুন্দরবনে পৃথক আরেক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে আরও পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গোলাবারুদ ও দুটি ম্যাগাজিন। দুই অভিযানে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও কোনো দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত খুলনার কয়রা ও দাকোপের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় অভিযান দুটি চালায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা কয়েকজন জেলেকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন তথ্য পায় কোস্ট গার্ড। এর ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথ অভিযান শুরু করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মি জেলেদের ফেলে অস্ত্রসহ বনের গভীরে পালিয়ে যায় দস্যুরা।

পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় পাঁচ জেলেকে।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন কয়রা উপজেলার জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।

এদিকে একই দিন সকাল ১১টার দিকে সুন্দরবনের দাকোপ অংশে পৃথক অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান। কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি দল অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই দলের সদস্যরাও বনের ভেতরে পালিয়ে যায়।

পরে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ওই ক্যালিবারের ৫২ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার দুপুরে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান

Bandarban Tribune

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুই অভিযান, উদ্ধার ৯ আগ্নেয়াস্ত্র

Update Time : ০৭:০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে কোস্ট গার্ড। অভিযানের মুখে পাঁচ জেলেকে ফেলে বনের গহিনে পালিয়ে গেছে দুর্ধর্ষ সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকে চারটি ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন দাকোপের সুন্দরবনে পৃথক আরেক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে আরও পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গোলাবারুদ ও দুটি ম্যাগাজিন। দুই অভিযানে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও কোনো দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত খুলনার কয়রা ও দাকোপের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় অভিযান দুটি চালায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা কয়েকজন জেলেকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন তথ্য পায় কোস্ট গার্ড। এর ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথ অভিযান শুরু করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মি জেলেদের ফেলে অস্ত্রসহ বনের গভীরে পালিয়ে যায় দস্যুরা।

পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় পাঁচ জেলেকে।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন কয়রা উপজেলার জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।

এদিকে একই দিন সকাল ১১টার দিকে সুন্দরবনের দাকোপ অংশে পৃথক অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান। কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি দল অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই দলের সদস্যরাও বনের ভেতরে পালিয়ে যায়।

পরে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ওই ক্যালিবারের ৫২ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার দুপুরে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।