Lama ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোনালদোর বিদায়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে হারানো মানে শুধু একজন তারকা ফুটবলারকে হারানো নয়, পর্তুগালের জন্য এটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক ধাক্কাও। জাতীয় দল থেকে রোনালদোর বিদায়ের ফলে আন্তর্জাতিক বিপণন, জার্সি বিক্রি ও বিদেশি দর্শকদের আগ্রহে প্রভাব পড়তে পারে। গত দুই দশক ধরে পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে থাকা রোনালদোর অনুপস্থিতিতে নতুন করে নিজেদের বাণিজ্যিক পরিচয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জে পড়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

পর্তুগালের পোর্তোভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক ও ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগাল শুধু একজন অসাধারণ খেলোয়াড়কেই হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে দেশটির ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রচারককে।

ড্যানিয়েল সা বলেন, জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বিপণনে রোনালদোর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের অবদান অসাধারণ। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পর্তুগিজ ফুটবলারের পক্ষে সেই জায়গা পূরণ করা কঠিন। তার মতে, রোনালদো ছিলেন পর্তুগালের বাণিজ্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান মুখ।

এর পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের পরিসংখ্যানও। ২০২৫ সালে ড্যানিয়েল সা-র প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এক সমীক্ষায় শুধু ‘সিআর সেভেন’ ব্র্যান্ডের বিপণন মূল্য ধরা হয়েছে ৮৫০ মিলিয়ন ইউরো। ২০২০ সালের তুলনায় যা ৩২৫ শতাংশ বেশি। ক্রীড়া সুনাম সূচকে ১০০-এর মধ্যে ৮৮ নম্বর পেয়েছেন রোনালদো। আয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবের ক্ষেত্রেও ছিল তার সর্বোচ্চ অবস্থান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ায় রোনালদো এখন নিজেই একটি বৈশ্বিক প্রচারমাধ্যমে পরিণত হয়েছেন।

তবে রোনালদোর বিদ্যায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের আয় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খাবে, এমনটা মনে করেন না এই বিশেষজ্ঞ। সা বলেন, অধিকাংশ স্পনসরশিপ চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে নয়, বরং জাতীয় দল ও ফুটবল ফেডারেশনের প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারের ভিত্তিতে করা হয়। পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পর্তুগালের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং অন্য তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিও দলটির বাণিজ্যিক আকর্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

তবে দুটি ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বেশি- জার্সি বিক্রি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দর্শকদের আগ্রহ। বিশেষ করে রোনালদোর সাত নম্বর জার্সি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। তার বিদায়ের পর এই জার্সির বিক্রি ও চাহিদা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। দেশের ভেতরে সমর্থকদের আগ্রহ খুব বেশি কমবে না বলে মনে করা হলেও বিদেশে রোনালদোর উপস্থিতি পর্তুগালের ম্যাচের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করত।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ড্যানিয়েল সা। তার মতে, ‘পরবর্তী রোনালদো’ খোঁজার চেষ্টা না করে জাতীয় দলের সামগ্রিক ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ, রোনালদোর মতো ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড একদিনে তৈরি হয়নি। দুই দশকের বেশি সময়ের সাফল্য, শিরোপা, ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার এই অবস্থান।

ড্যানিয়েল সা মনে করেন, এখন পর্তুগালের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুরো দলকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের পরও রোনালদোকে প্রমাণ করতে হবে, ফুটবলের বাইরেও তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক শক্তি অটুট রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Bandarban Tribune

রোনালদোর বিদায়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পর্তুগাল

Update Time : ০৬:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে হারানো মানে শুধু একজন তারকা ফুটবলারকে হারানো নয়, পর্তুগালের জন্য এটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক ধাক্কাও। জাতীয় দল থেকে রোনালদোর বিদায়ের ফলে আন্তর্জাতিক বিপণন, জার্সি বিক্রি ও বিদেশি দর্শকদের আগ্রহে প্রভাব পড়তে পারে। গত দুই দশক ধরে পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে থাকা রোনালদোর অনুপস্থিতিতে নতুন করে নিজেদের বাণিজ্যিক পরিচয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জে পড়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

পর্তুগালের পোর্তোভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক ও ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগাল শুধু একজন অসাধারণ খেলোয়াড়কেই হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে দেশটির ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রচারককে।

ড্যানিয়েল সা বলেন, জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বিপণনে রোনালদোর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের অবদান অসাধারণ। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পর্তুগিজ ফুটবলারের পক্ষে সেই জায়গা পূরণ করা কঠিন। তার মতে, রোনালদো ছিলেন পর্তুগালের বাণিজ্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান মুখ।

এর পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের পরিসংখ্যানও। ২০২৫ সালে ড্যানিয়েল সা-র প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এক সমীক্ষায় শুধু ‘সিআর সেভেন’ ব্র্যান্ডের বিপণন মূল্য ধরা হয়েছে ৮৫০ মিলিয়ন ইউরো। ২০২০ সালের তুলনায় যা ৩২৫ শতাংশ বেশি। ক্রীড়া সুনাম সূচকে ১০০-এর মধ্যে ৮৮ নম্বর পেয়েছেন রোনালদো। আয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবের ক্ষেত্রেও ছিল তার সর্বোচ্চ অবস্থান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ায় রোনালদো এখন নিজেই একটি বৈশ্বিক প্রচারমাধ্যমে পরিণত হয়েছেন।

তবে রোনালদোর বিদ্যায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের আয় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খাবে, এমনটা মনে করেন না এই বিশেষজ্ঞ। সা বলেন, অধিকাংশ স্পনসরশিপ চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে নয়, বরং জাতীয় দল ও ফুটবল ফেডারেশনের প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারের ভিত্তিতে করা হয়। পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পর্তুগালের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং অন্য তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিও দলটির বাণিজ্যিক আকর্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

তবে দুটি ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বেশি- জার্সি বিক্রি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দর্শকদের আগ্রহ। বিশেষ করে রোনালদোর সাত নম্বর জার্সি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। তার বিদায়ের পর এই জার্সির বিক্রি ও চাহিদা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। দেশের ভেতরে সমর্থকদের আগ্রহ খুব বেশি কমবে না বলে মনে করা হলেও বিদেশে রোনালদোর উপস্থিতি পর্তুগালের ম্যাচের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করত।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ড্যানিয়েল সা। তার মতে, ‘পরবর্তী রোনালদো’ খোঁজার চেষ্টা না করে জাতীয় দলের সামগ্রিক ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ, রোনালদোর মতো ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড একদিনে তৈরি হয়নি। দুই দশকের বেশি সময়ের সাফল্য, শিরোপা, ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার এই অবস্থান।

ড্যানিয়েল সা মনে করেন, এখন পর্তুগালের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুরো দলকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের পরও রোনালদোকে প্রমাণ করতে হবে, ফুটবলের বাইরেও তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক শক্তি অটুট রয়েছে।