Lama ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতৃভাষায় খ্রিষ্টধর্মের বাণী প্রচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আর্চবিশপলরেন্স সুব্রত হাওলাদার

দীর্ঘ ত্যাগ ও সাধনার পর বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে একজন যোগ্য যাজক (ফাদার) পাওয়া পুরো অঞ্চলের জন্য বিরাট আশীর্বাদ। নব-অভিষিক্ত ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনির মাধ্যমে এখন থেকে বাংলা ভাষার পাশাপাশি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব মাতৃভাষায়ও খ্রিষ্টধর্মের বাণী প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লীতে ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আর্চবিশপ আরও বলেন, এটি শুধু স্থানীয় মণ্ডলির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য আনন্দ ও আশীর্বাদের বিষয়। বর্তমানে আরও দুজন যাজক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। মাতৃভাষায় আধ্যাত্মিক চর্চা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসকে আরও গভীর ও অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে নব-অভিষিক্ত যাজক ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানবসেবা, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই তাঁর প্রধান ব্রত। পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে আজীবন কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় খ্রিষ্টীয় মণ্ডলি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ বলেন, থানচির মতো দুর্গম জনপদ থেকে একজন স্থানীয় যুবকের যাজকপদে অভিষিক্ত হওয়া ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। এ অর্জন স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা ও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
এর আগে সকালে বিশেষ খ্রিস্টযাগ ও পবিত্র প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পবিত্র শাস্ত্র পাঠ, মণ্ডলি কর্তৃক শপথ গ্রহণ এবং আর্চবিশপের হাত আরোপের মাধ্যমে ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরাকে যাজকপদে অভিষিক্ত করা হয়।
অভিষেক শেষে নবীন যাজককে ফুল ও ঐতিহ্যবাহী উপহার দিয়ে গণসংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত যাজক, সিস্টার, কারিতাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর শত শত নারী-পুরুষ ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Bandarban Tribune

মাতৃভাষায় খ্রিষ্টধর্মের বাণী প্রচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আর্চবিশপলরেন্স সুব্রত হাওলাদার

Update Time : ০৬:১৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ত্যাগ ও সাধনার পর বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে একজন যোগ্য যাজক (ফাদার) পাওয়া পুরো অঞ্চলের জন্য বিরাট আশীর্বাদ। নব-অভিষিক্ত ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনির মাধ্যমে এখন থেকে বাংলা ভাষার পাশাপাশি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব মাতৃভাষায়ও খ্রিষ্টধর্মের বাণী প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লীতে ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আর্চবিশপ আরও বলেন, এটি শুধু স্থানীয় মণ্ডলির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য আনন্দ ও আশীর্বাদের বিষয়। বর্তমানে আরও দুজন যাজক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। মাতৃভাষায় আধ্যাত্মিক চর্চা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসকে আরও গভীর ও অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে নব-অভিষিক্ত যাজক ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানবসেবা, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই তাঁর প্রধান ব্রত। পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে আজীবন কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় খ্রিষ্টীয় মণ্ডলি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ বলেন, থানচির মতো দুর্গম জনপদ থেকে একজন স্থানীয় যুবকের যাজকপদে অভিষিক্ত হওয়া ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। এ অর্জন স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা ও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
এর আগে সকালে বিশেষ খ্রিস্টযাগ ও পবিত্র প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পবিত্র শাস্ত্র পাঠ, মণ্ডলি কর্তৃক শপথ গ্রহণ এবং আর্চবিশপের হাত আরোপের মাধ্যমে ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরাকে যাজকপদে অভিষিক্ত করা হয়।
অভিষেক শেষে নবীন যাজককে ফুল ও ঐতিহ্যবাহী উপহার দিয়ে গণসংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত যাজক, সিস্টার, কারিতাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর শত শত নারী-পুরুষ ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।